বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে (নারিকেল জিঞ্জিরা) যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? দ্বীপ কখন খোলা থাকে, কীভাবে যাবেন, দ্বীপের নিয়মকানুন আর কোথায় থাকবেন — সব এক জায়গায়। আমরা দ্বীপের নিরিবিলি দক্ষিণ প্রান্তে, ছেঁড়াদ্বীপের কাছে এল মারেনা ইকো রিসোর্ট চালাই, তাই প্রতি মৌসুমে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিই।
সংক্ষেপে উত্তর
- কোথায়?
- বঙ্গোপসাগরে, বাংলাদেশের দক্ষিণ প্রান্তে, কক্সবাজার জেলার টেকনাফে।
- কখন যাওয়া যায়?
- শুধু সরকারের ঠিক করে দেওয়া পর্যটন মৌসুমে। ২০২৫–২৬ মৌসুমে ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি, নভেম্বরে শুধু দিনে গিয়ে দিনেই ফেরা।
- কীভাবে যাবেন?
- কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া জেটি থেকে পর্যটকবাহী জাহাজে, একপথে প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা।
- পাস লাগে?
- হ্যাঁ। গত মৌসুমে প্রতিটি জাহাজের টিকিটে QR কোডসহ ট্রাভেল পাস ছিল।
- দিনে কতজন যেতে পারেন?
- ২০২৫–২৬ মৌসুমে দিনে সর্বোচ্চ ২,০০০ জন।
- খরচ কেমন?
- জাহাজে যাওয়া-আসা জনপ্রতি ৳৩,৫০০ থেকে। আমাদের কটেজ ৳২,০০০ থেকে, ভাড়া পুরো কটেজের।
- কয় দিন থাকবেন?
- রাতে থাকার অনুমতি থাকলে এক-দুই রাত — ছেঁড়াদ্বীপ, সূর্যাস্ত আর রাতের আকাশ দেখার জন্য যথেষ্ট।
কখন যাবেন
সেন্টমার্টিন সরকার-ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা, তাই প্রতি বছর সরকার ঠিক করে দেয় কখন আর কতজন পর্যটক যেতে পারবেন।
২০২৫–২৬ মৌসুমে দ্বীপ খোলা ছিল ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি। নভেম্বরে শুধু দিনে গিয়ে দিনেই ফিরতে হতো, ডিসেম্বর আর জানুয়ারিতে রাতে থাকা যেত, আর দিনে সর্বোচ্চ ২,০০০ জন যেতে পারতেন। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নয় মাসের জন্য দ্বীপে পর্যটকদের যাওয়া বন্ধ হয়।
২০২৬–২৭ মৌসুমের জন্য সরকার অক্টোবর ২০২৬-এ জানিয়েছে, রাতে থাকার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে, নতুন নির্দেশনা আসবে। নির্দেশনা প্রকাশ হলেই এই গাইড হালনাগাদ করব; সর্বশেষ তথ্যের জন্য যেকোনো সময় হোয়াটসঅ্যাপে জিজ্ঞেস করুন।
আবহাওয়ার দিক থেকেও খোলা থাকার এই মাসগুলোই সবচেয়ে ভালো: শীতে দিন শুকনো আর রোদেলা, সাগর পাড়ি দেওয়ার জন্য তুলনামূলক শান্ত, আর সন্ধ্যায় হালকা শীত।
সেন্টমার্টিন দ্বীপে কীভাবে যাবেন
দ্বীপে যাওয়া যায় শুধু সাগরপথে। ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে সাধারণ পথটা এমন।
- ১কক্সবাজারে আসুনঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে বাস, ট্রেন বা বিমানে কক্সবাজার আসুন।
- ২জাহাজে উঠুনপর্যটকবাহী জাহাজ কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া জেটি থেকে সকাল ৭টার দিকে ছাড়ে, দ্বীপে পৌঁছাতে লাগে প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। গত মৌসুমে টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলেনি।
- ৩জেটি থেকে দক্ষিণেজাহাজ ভেড়ে দ্বীপের জেটিতে। ছেঁড়াদ্বীপ আর এল মারেনার দিকে যেতে স্থানীয় ভ্যান, রিকশা বা বাইকে দক্ষিণে চলে আসুন, অথবা আমাদের বলুন — গাড়ি ঠিক করে দেব (খরচ আলাদা)।
- ৪ফেরার পথদ্বীপ থেকে ফেরার জাহাজ ছাড়ে বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে, তাই দিনে গিয়ে দিনে ফিরলে দ্বীপে থাকা যায় মাত্র কয়েক ঘণ্টা।
ট্রাভেল পাস আর জাহাজের টিকিট
গত মৌসুমে সেন্টমার্টিনের জাহাজের টিকিট বিক্রি হয়েছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত অনলাইন পোর্টালে। প্রতিটি টিকিটে ছিল ট্রাভেল পাস আর QR কোড, আর QR কোড ছাড়া টিকিট জাল হিসেবে গণ্য হতো।
শুধু অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে টিকিট কিনুন, আর পুরো ভ্রমণে টিকিট সঙ্গে রাখুন। অথবা আমাদের বলুন: হোয়াটসঅ্যাপে যাত্রার তারিখ, জাহাজ আর সিটের ধরন জানালে থাকার বুকিংয়ের সঙ্গেই সিট বুক করে দেব।
দ্বীপের নিয়মকানুন
২০২৫–২৬ মৌসুমে পর্যটকদের জন্য সরকারের নির্দেশনা ছিল:
- রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, জোরে গান-বাজনা বা বারবিকিউ পার্টি করা যাবে না।
- সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইক বা অন্য কোনো মোটরচালিত যান চালানো যাবে না।
- কেয়াবনে ঢোকা যাবে না, কেয়া ফল তোলা বা কেনাবেচা করা যাবে না।
- প্রবাল, কচ্ছপ, পাখি, কাঁকড়া, তারামাছ বা সামুদ্রিক শৈবালের ক্ষতি করা বা সংগ্রহ করা যাবে না।
- পলিথিন নিষিদ্ধ। চিপসের প্যাকেট, স্ট্র বা ছোট প্লাস্টিকের বোতলের মতো একবার ব্যবহারের প্লাস্টিক এড়িয়ে চলুন, সঙ্গে রাখুন বারবার ব্যবহার করা যায় এমন পানির বোতল।
এল মারেনায় আমরা গ্রিল করি রিসোর্টের নিজস্ব বারবিকিউ স্পটে, সৈকতে নয়, আর প্রত্যেক অতিথিকে অনুরোধ করি নিজের ময়লা সঙ্গে নিয়ে যেতে।
ছেঁড়াদ্বীপ, বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ বিন্দু
ছেঁড়াদ্বীপ সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ প্রান্ত ঘেঁষে কয়েকটি ছোট্ট দ্বীপের সমষ্টি, বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ বিন্দু। নামের মানেই মূল দ্বীপ থেকে ছিঁড়ে আলাদা হয়ে যাওয়া দ্বীপ।
ভাটার সময় দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে বালু আর পাথরের ওপর দিয়ে হেঁটেই চলে যাওয়া যায়; জোয়ারে পানি পথ আটকে দেয়। মূল জেটি থেকে নৌকাতেও যাওয়া যায়। রওনা দেওয়ার আগে জোয়ার-ভাটার সময় দেখে নিন।
সেখানে ছায়া কম, চায়ের দোকানও হাতে গোনা দু-একটি, তাই পানি, টুপি আর সানস্ক্রিন সঙ্গে নিন। ছেঁড়াদ্বীপের কাছে থাকলে সকাল সকাল ঘুরে আসতে পারবেন, দিনের পর্যটকেরা আসার আগেই।

সেন্টমার্টিনে কোথায় থাকবেন
জাহাজ ভেড়ে জেটিতে, আর দ্বীপের সবচেয়ে ভিড় ওই দিকটাতেই। ছেঁড়াদ্বীপের আশপাশে দ্বীপের দক্ষিণ অংশ অনেক নিরিবিলি — পাথুরে সৈকত, কম মানুষ, আর রাতে অন্ধকার, তারাভরা আকাশ।
এল মারেনা দ্বীপের দক্ষিণে, ছেঁড়াদ্বীপের কাছে। থাকতে পারেন সর্বোচ্চ ৪ জনের ডুপ্লেক্স কটেজে (৳৪,০০০–৳৬,০০০), ২ জনের সিঙ্গেল কটেজে (৳২,০০০–৳৩,০০০) অথবা সৈকতের পাশে ২ জনের তাঁবুতে (৳১,০০০–৳১,৫০০)।
সঙ্গে যা নেবেন
- QR কোডসহ জাহাজের টিকিট আর ছবিসহ পরিচয়পত্র
- বারবার ব্যবহার করা যায় এমন পানির বোতল
- সানস্ক্রিন, সানগ্লাস আর টুপি
- পাথুরে সৈকতে হাঁটার জন্য স্যান্ডেল বা পানিতে চলার জুতা
- সন্ধ্যার হালকা শীতের জন্য পাতলা জ্যাকেট বা শাল
- টর্চলাইট আর পাওয়ার ব্যাংক
- ভ্যান, নৌকা আর ছোট দোকানের জন্য নগদ টাকা
- প্রয়োজনীয় ওষুধ
সেন্টমার্টিন ভ্রমণ ব্লগ
সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণের পরিকল্পনার জন্য কাজের, হালনাগাদ তথ্য — লিখছে ছেঁড়াদ্বীপের কাছের এল মারেনা ইকো রিসোর্টের টিম।
- ছেঁড়াদ্বীপ ভ্রমণ গাইড: ভাটায় হেঁটে যাওয়া, নৌকা আর সঙ্গে যা নেবেন
- সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সেরা সময়: মৌসুম, আবহাওয়া আর ঠিক দিন বাছাই
- সেন্টমার্টিন ভ্রমণে কত খরচ: জাহাজ, থাকা, খাওয়া আর খরচ কমানোর উপায়
- সেন্টমার্টিনে কোথায় থাকবেন: জেটির দিক না নিরিবিলি দক্ষিণ, কটেজ না তাঁবু
- সেন্টমার্টিনে কী খাবেন: সামুদ্রিক মাছ, বারবিকিউর রাত আর রিসোর্টের খাবার
- সেন্টমার্টিন কীভাবে যাবেন: ঢাকা, চট্টগ্রাম আর কক্সবাজার থেকে
- সেন্টমার্টিন জাহাজের টিকিট: জাহাজ, ভাড়া, সময়সূচি আর বুকিং




