ছবি: Minhas Kamal (CC0), Wikimedia Commons থেকে
বেশির ভাগ ডে-ট্রিপার শুধু ভিড়ের জেটিটাই দেখেন। ভাটায় হেঁটে ছেঁড়াদ্বীপ থেকে রাতের তারা পর্যন্ত দ্বীপের বাকিটা কেমন, আর কোনটা কখন করবেন।
সেন্টমার্টিন ছোট, সমতল, গাড়ি নেই, আর এর সেরা মুহূর্তগুলো খুব সাধারণ: ভাটার সময় প্রবাল পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটা, পাথরের আড়ালে সূর্য ডোবা, গ্রিলে মাছ, আর বহু বছর না দেখা এত তারা। অনেকে উত্তরের ভিড়ের জেটি পেরিয়ে আর এগোন না। কোনগুলো সময় দেওয়ার মতো, ছেঁড়াদ্বীপের কাছের এল মারেনা ইকো রিসোর্টের টিম থেকে বলছি।
এর কয়েকটা হয় খুব ভোরে বা সন্ধ্যার পরে, তাই রাতে থাকতে হবে। গত মৌসুমে (২০২৫–২৬) রাতে থাকা যেত ডিসেম্বর আর জানুয়ারিতে, নভেম্বরে না। লেখার সময় (অক্টোবর ২০২৬) ২০২৬–২৭-এর নিয়ম প্রকাশ হয়নি।
১. ভাটায় হেঁটে ছেঁড়াদ্বীপ
দ্বীপের দক্ষিণ মাথার ঠিক পাশের কয়েকটা ছোট দ্বীপ মিলে ছেঁড়াদ্বীপ, বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষিণের বিন্দু। ভাটার সময় দক্ষিণ থেকে বালু আর প্রবাল পাথরের ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া যায়; জোয়ারে সমুদ্র পথ কেটে দেয়। মূল জেটি থেকে নৌকাও যায়। দুপুরের দিকে জাহাজে ডে-ট্রিপাররা আসার আগে ভোরে যান, আর আগে জোয়ার-ভাটার সময় দেখে নিন। বিস্তারিত আমাদের ছেঁড়াদ্বীপ গাইডে।

২. সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখুন
ভোরবেলা দ্বীপের সবচেয়ে শান্ত সময়: পাথরের ওপর নরম আলো, সৈকত প্রায় ফাঁকা। সন্ধ্যায় সূর্য ডোবে পাথরের আড়ালে, জমে থাকা পানি সোনালি হয়ে যায়। দুটোই ডে-ট্রিপের সময়ের বাইরে: জাহাজ পৌঁছায় দুপুরের দিকে আর ফিরতি জাহাজ ছাড়ে বিকেল ৩টা থেকে ৩টা ৩০-এর মধ্যে।

৩. মাছ ধরার নৌকা দেখুন
সৈকতজুড়ে কাঠের মাছ ধরার নৌকা, আর সমুদ্রে বেরিয়ে যেতেও দেখবেন। সকালে তীর ধরে হাঁটলে দেখবেন বালুর ওপর নৌকা তুলে রাখা। ছেঁড়াদ্বীপে পানিপথে যেতে চাইলে মূল জেটি থেকে নৌকা যায়।

৪. তাজা সামুদ্রিক খাবার খান
মাছের তরকারি, মাছ ভাজা আর গ্রিলে মাছ বা লবস্টার — বেশির ভাগ মানুষ এগুলোই মনে রাখেন। এল মারেনায় আমাদের খোলা রেস্তোরাঁয় সকাল, দুপুর আর রাতের খাবার পাওয়া যায়, আর অতিথিরা আমাদের বারবিকিউর জায়গা ব্যবহার করতে পারেন, শুধু খাবারের দাম দিয়ে। গত মৌসুমে রাতে সৈকতে বারবিকিউ পার্টি নিষিদ্ধ ছিল, তাই গ্রিল করুন রিসোর্টে, বালুতে নয়। আরও পড়ুন সেন্টমার্টিনে কী খাবেন।

৫. রাতের আকাশে তারা দেখুন
দ্বীপের দক্ষিণে আলো খুব কম, তাই পরিষ্কার রাতে আকাশভরা তারা। সৈকত অন্ধকার আর চুপচাপ রাখুন: দ্বীপের নিয়মে রাতে সেখানে আলো আর জোরে গান নিষেধ। এল মারেনায় ডুপ্লেক্স কটেজের ওয়াচটাওয়ার থেকে দেখতে পারেন, আর আমাদের নীরবতার সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা।

৬. আলতো করে তীরটা ঘুরে দেখুন
ভাটার সময় পাথুরে তীরে জমে থাকা পানি, কাঁকড়া আর ঝিনুক। দেখুন, ছবি তুলুন, কিন্তু যেখানকার জিনিস সেখানেই রাখুন: গত মৌসুমের নিয়মে প্রবাল, কচ্ছপ, পাখি, কাঁকড়া, তারামাছ বা শৈবালের ক্ষতি করা বা তুলে নেওয়া নিষেধ ছিল। স্যান্ডেল বা পানিতে চলার জুতা পরুন, পাথর ধারালো।
৭. কিছুই না করে থাকুন
গাড়ি নেই, সন্ধ্যাগুলো চুপচাপ। আসল মজা এটাই। একটা হ্যামক, একটা বই আর লম্বা দুপুরের খাবার — দিব্যি ভালো প্ল্যান। আমাদের এখানে থাকলে পরিবারের জন্য ফুটবল মাঠ আর বাচ্চাদের খেলার জায়গা আছে।
যা করবেন না
- রাতে সৈকতে আলো, জোরে গান বা বারবিকিউ পার্টি নয়।
- সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইক বা অন্য কোনো মোটরযান নয়।
- কেয়াবনে ঢুকবেন না, কেয়া ফল তুলবেন না, কিনবেন বা বেচবেন না।
- পলিথিন ব্যাগ নয়: রিফিল করা যায় এমন বোতল আনুন, ময়লা ফেরত নিয়ে যান।
এগুলো ছিল ২০২৫–২৬-এর সরকারি নিয়ম; পুরো তালিকা আমাদের প্রবাল দ্বীপ সংরক্ষণ লেখায়।
সব কিছু কীভাবে মেলাবেন
ডে-ট্রিপে হাতে থাকে মাত্র কয়েক ঘণ্টা, বেশির ভাগই জেটির কাছে। এক রাত থাকলে পাবেন সূর্যাস্ত, তারা আর ভোরে ছেঁড়াদ্বীপে হাঁটা; দুই রাতে মাঝখানে একটা পুরো দিন ফাঁকা। তিনটা প্ল্যানই আছে আমাদের সেন্টমার্টিন ট্যুর প্ল্যানে। এল মারেনা দ্বীপের শান্ত দক্ষিণে, ছেঁড়াদ্বীপের কাছে, তাই এসবের বেশির ভাগ যেখানে, সেখান থেকেই দিন শুরু করবেন।



