মূল লেখায় যান
এল মারেনা
সমুদ্রে বিস্তৃত বালুচরসহ সেন্টমার্টিন দ্বীপের আকাশ থেকে তোলা দৃশ্য

ছেঁড়াদ্বীপ সৈকতের কাছে

সেন্টমার্টিনের নিরিবিলি প্রান্তে

কাঠের কটেজ মাত্র ৳২,০০০ থেকে, সৈকতের পাশে তাঁবুও আছে। সন্ধ্যায় সি-ফুড বারবিকিউ, মাঠে ফুটবল আর তারাভরা আকাশের নিচে বনফায়ার।

কোথায় থাকবেন

কাঠের কটেজ আর সৈকতের তাঁবু

চারজনের ডুপ্লেক্স, দুজনের সিঙ্গেল কটেজ, নাকি সৈকতের পাশে তাঁবু — কটেজ ভাগ করে নিলে জনপ্রতি পড়তে পারে মাত্র ৳১,০০০।

আপনার জন্য কোনটি?

ডুপ্লেক্স না সিঙ্গেল কটেজ, নাকি সৈকতের পাশে তাঁবু — কোনটিতে কী আছে, এক নজরে দেখে নিন।

ডুপ্লেক্স কটেজ, সিঙ্গেল কটেজ আর তাঁবুর তুলনা
সুবিধাডুপ্লেক্স কটেজসিঙ্গেল কটেজতাঁবু
ভাড়া৳৪,০০০রবি–বৃহস্পতি৳৬,০০০শুক্র–শনিজনপ্রতি নয়৳২,০০০রবি–বৃহস্পতি৳৩,০০০শুক্র–শনিজনপ্রতি নয়৳১,০০০রবি–বৃহস্পতি৳১,৫০০শুক্র–শনিজনপ্রতি নয়
অতিথিসর্বোচ্চ ৪ জনসর্বোচ্চ ২ জনসর্বোচ্চ ২ জন
অ্যাটাচড বাথরুমআছেনেইনেই
বারান্দাআছেনেইনেই
নিজস্ব হ্যামকআছেনেইনেই
ওয়াচটাওয়ারআছেনেইনেই
ফ্রি মিনারেল ওয়াটার আর ২৪ ঘণ্টা রুম সার্ভিসআছেআছেজেনে নিন
রেস্তোরাঁ, বারবিকিউ স্পট, ফুটবল আর খেলার জায়গাআছেআছেআছে

ভাড়ার মধ্যেই

প্রতিটি কটেজের সঙ্গে ফ্রি

ডুপ্লেক্স হোক বা সিঙ্গেল, যেকোনো কটেজ বুক করলেই এগুলো পাচ্ছেন, কোনো বাড়তি খরচ ছাড়া। আলাদা খরচের সেবাগুলোও নিচে দেওয়া আছে, যাতে বুক করার আগেই পুরো খরচ জানতে পারেন।

  • কমপ্লিমেন্টারি ড্রিংক

    আমাদের পক্ষ থেকে একটি পানীয়।

  • মিনারেল ওয়াটার

    বোতলের খাবার পানি, আমাদের পক্ষ থেকে।

  • ২৪ ঘণ্টা রুম সার্ভিস

    মাঝরাতে কিছু লাগবে? শুধু বলুন, আমরা দিনরাত আছি।

  • নিজস্ব রেস্তোরাঁ

    কটেজ থেকে কয়েক পা দূরেই আমাদের খোলা আকাশের রেস্তোরাঁ।

  • বারবিকিউ স্পট

    সন্ধ্যায় তাজা সি-ফুড গ্রিল করুন, দাম শুধু খাবারের।

  • ফুটবল

    বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে খেলার জন্য খোলা মাঠ।

  • শিশুদের খেলার জায়গা

    ছোটদের জন্য স্লাইড, দোলনা আর চড়ার খেলনা।

ডুপ্লেক্স কটেজে বাড়তি যা আছে

  • কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট
  • অ্যাটাচড বাথরুম
  • বারান্দা
  • নিজস্ব হ্যামক
  • ওয়াচটাওয়ার
ডুপ্লেক্স কটেজ দেখুন

আলাদা খরচে

  • রেস্তোরাঁর খাবার

    সকালের নাশতা (ডুপ্লেক্সে ফ্রি), দুপুর আর রাতের খাবার। বিশেষ কিছু খেতে চাইলে আগে থেকে অর্ডার দিন।

  • সৈকতে ক্যান্ডেললাইট ডিনার

    বালুর ওপর মোমবাতির আলোয় রাতের খাবার — হানিমুন, জন্মদিন বা বিবাহবার্ষিকীর জন্য দারুণ।

  • বাইক ও অটো

    দ্বীপে ঘোরাঘুরির জন্য বাইক বা অটো ঠিক করে দিতে পারি।

  • নিজে রান্নার সুবিধা

    বাজার থেকে তাজা মাছ কিনেছেন? সেলফ-কুকিংয়ের ব্যবস্থায় নিজের মতো রেঁধে নিন।

ভিডিওতে

বুক করার আগে নিজের চোখে দেখুন

রিসোর্টেই ধারণ করা আসল ভিডিও: কটেজ, ক্যাম্পফায়ারের সন্ধ্যা আর আমাদের চারপাশের সাগরতীর।

ডুপ্লেক্স কটেজের ভেতরে

হ্যামকসহ বারান্দা, লফট বেড আর ওয়াচ টাওয়ার।

ক্যাম্পফায়ারের সন্ধ্যা

রাতের খাবারের পর তারাভরা আকাশের নিচে আগুনের পাশে আড্ডা।

দ্বীপের সাগরতীর

রিসোর্টের কাছের পাথুরে সৈকত আর ঢেউ।

যা যা করতে পারেন

দ্বীপের দিন আর রাত

সাগরপাড়ে অলস দিন, গ্রিলে সি-ফুড আর রাতে বনফায়ার। কী করতে চান জানান, আমরা সব ব্যবস্থা করে দেব।

  1. সি-ফুড বারবিকিউ

    তাজা মাছ, লবস্টার বা চিকেন — সন্ধ্যায় আমাদের বারবিকিউ স্পটে কয়লার আগুনে গ্রিল। আজ কী তাজা এসেছে, জিজ্ঞেস করে নিন।

    জ্বলন্ত কয়লার ওপর আস্ত মাছ গ্রিল হচ্ছে
  2. বনফায়ারের রাত

    রাতের খাবারের পর তারাভরা আকাশের নিচে আগুন ঘিরে আড্ডা, কাছেই ঢেউয়ের শব্দ।

  3. শিশুদের খেলার জায়গা

    স্লাইড, দোলনা আর চড়ার খেলনায় ছোটরা মেতে থাকবে, আর আপনি পাশে বসে বিশ্রাম নেবেন।

    হলুদ স্লাইড আর দোলনাসহ শিশুদের খেলার জায়গা
  4. ফুটবল

    বন্ধুদের নিয়ে আমাদের খোলা মাঠে ফুটবল খেলুন। বল লাগলে শুধু আমাদের বলুন।

  5. মাছ ধরা

    স্থানীয় নৌকায় চড়ে মাছ ধরায় ভাগ্য পরীক্ষা করুন। জানালে আমরা ব্যবস্থা করে দেব।

    কাঠের ডেকে রাখা বড়শি
  6. ছেঁড়াদ্বীপ

    বাংলাদেশের একেবারে দক্ষিণের বিন্দু, রিসোর্ট থেকে অল্প পথ। কাছেই থাকছেন, তাই ভিড় জমার আগেই সকাল সকাল ঘুরে আসতে পারবেন।

    সমুদ্রে বিস্তৃত বালুচরসহ সেন্টমার্টিন দ্বীপের আকাশ থেকে তোলা দৃশ্য
  7. সূর্যাস্ত

    পাথুরে সৈকতে সূর্য ডোবা দেখুন, তারপর আকাশজুড়ে তারা — এখানে শহরের আলো নেই।

    পাথুরে সৈকত আর জমে থাকা পানির ওপর সূর্যাস্ত

জাহাজের টিকিট

জাহাজের টিকিটও আমরাই কেটে দেব

নিচে জাহাজ আর সিটের ধরন মিলিয়ে দেখুন, তারপর হোয়াটসঅ্যাপে যাত্রার তারিখ জানান। থাকার বুকিংয়ের সঙ্গেই আপনার সিট বুক করে দেব — এক চ্যাটেই সব ঠিক।

কক্সবাজার → সেন্টমার্টিন

২টি জাহাজ · যাওয়া-আসার ভাড়া জনপ্রতি ৳৩,৫০০ থেকে

  • এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস

    এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস

    ছাড়ে প্রায় সকাল ৭টা · ফেরে প্রায় বিকেল ৩টা

    যাওয়া-আসা

    ৳৩,৫০০

    • ইকোনমি (ল্যাভেন্ডার, মেরিগোল্ড)৳৩,৫০০একপথ ৳১,৮০০
    • খোলা ডেক৳৪,০০০একপথ ৳২,১০০
    • গ্ল্যাডিওলাস৳৫,০০০একপথ ৳২,৬০০
    হোয়াটসঅ্যাপে টিকিট বুক করুন
  • এমভি বার আউলিয়া

    এমভি বার আউলিয়া

    ছাড়ে প্রায় সকাল ৭টা · ফেরে প্রায় বিকেল ৩টা

    যাওয়া-আসা

    ৳৩,৫০০

    • মেইন ডেক, সান ডেক৳৩,৫০০একপথ ৳১,৮০০
    • রিভিয়েরা, প্যানোরামা বিজনেস৳৪,০০০একপথ ৳২,১০০
    • মোজারাত চেয়ার৳৪,৩০০একপথ ৳২,২০০
    হোয়াটসঅ্যাপে টিকিট বুক করুন

ভাড়া জনপ্রতি যাওয়া-আসার (কেবিনের ভাড়া প্রতি কেবিন), জাহাজ কর্তৃপক্ষের ২০২৫–২৬ মৌসুমের তালিকা অনুযায়ী, অক্টোবর ২০২৬-এ মিলিয়ে দেখা; বুকিংয়ের সময় বর্তমান ভাড়া নিশ্চিত করে জানাব। গত মৌসুমে জাহাজ চলেছে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি, আর প্রতিটি টিকিটে সরকারি ট্রাভেল পাস লেগেছে। পর্যটকবাহী জাহাজ ছাড়ে কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া জেটি থেকে; ২০২৫–২৬ মৌসুম থেকে সরকারি নিয়মে টেকনাফ থেকে জাহাজে পর্যটক নেওয়া হয় না।

গ্যালারি

কটেজ, খাবার, সৈকত আর সেই সূর্যাস্ত — সব ছবিই এল মারেনা আর তার আশপাশে তোলা।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

সংক্ষেপে উত্তর

এল মারেনা ইকো রিসোর্ট কোথায়?
বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফে, সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে, ছেঁড়াদ্বীপ সৈকতের কাছে। দ্বীপের নিরিবিলি দিক, জেটির ভিড় থেকে দূরে।
এল মারেনায় থাকতে কত খরচ?
সর্বোচ্চ ৪ জনের ডুপ্লেক্স কটেজ ৳৪,০০০–৳৬,০০০, সর্বোচ্চ ২ জনের সিঙ্গেল কটেজ ৳২,০০০–৳৩,০০০, আর ২ জনের তাঁবু ৳১,০০০–৳১,৫০০। রবি থেকে বৃহস্পতিবার নিয়মিত ভাড়ার অর্ধেক, আর শুক্র ও শনিবার ২৫% ছাড়। ভাড়া পুরো কটেজ বা তাঁবুর, তাই কটেজ ভরে থাকলে জনপ্রতি পড়তে পারে মাত্র ৳১,০০০।
ডুপ্লেক্স আর সিঙ্গেল কটেজের পার্থক্য কী?
ডুপ্লেক্স হলো সর্বোচ্চ ৪ জনের দোতলা কাঠের কটেজ — অ্যাটাচড বাথরুম, বারান্দা, নিজস্ব হ্যামক আর ওয়াচটাওয়ারসহ। সিঙ্গেল কটেজ দুজনের ছিমছাম একঘরের কটেজ, সেখানে অ্যাটাচড বাথরুম, বারান্দা বা হ্যামক নেই।
শিশুসহ পরিবারের জন্য এল মারেনা কি ভালো?
হ্যাঁ। আছে স্লাইড, দোলনা আর চড়ার খেলনাসহ শিশুদের খেলার জায়গা, ফুটবল খেলার খোলা মাঠ আর ২৪ ঘণ্টা রুম সার্ভিস, আর একটি ডুপ্লেক্স কটেজেই চারজনের পরিবার থাকতে পারে।
রিসোর্টে কী কী করা যায়?
বারবিকিউ স্পটে সি-ফুড বারবিকিউ, ফুটবল, শিশুদের খেলার জায়গা, বনফায়ারের রাত, স্থানীয় নৌকায় মাছ ধরা আর পাথুরে সৈকতে সূর্যাস্ত। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ বিন্দু ছেঁড়াদ্বীপও কাছেই।
সেন্টমার্টিন দ্বীপে কখন যাওয়া যায়?
শুধু সরকারের ঠিক করে দেওয়া পর্যটন মৌসুমে। ২০২৫–২৬ মৌসুমে দ্বীপ খোলা ছিল নভেম্বর থেকে জানুয়ারি — নভেম্বরে শুধু দিনে গিয়ে দিনেই ফেরা, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে রাতে থাকা যেত — আর দিনে সর্বোচ্চ ২,০০০ পর্যটক।
আমাদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড পড়ুন