জাহাজের সময় ধরে বানানো তিনটি তৈরি প্ল্যান: দিনের ট্রিপ, এক রাত, আর ৩ দিন ২ রাত। আপনার তারিখ আর মৌসুমের নিয়মে যেটা মেলে, সেটা বেছে নিন।
সেন্টমার্টিনের প্রতিটি প্ল্যান শুরু হয় জাহাজ দিয়ে। গত মৌসুমে জাহাজ কক্সবাজার থেকে ছেড়েছে সকাল ৭টার দিকে, দ্বীপে পৌঁছেছে দুপুরের দিকে, আর ফিরেছে বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে। বাকি সব এই সময়ের চারপাশে। দ্রুত এক নজর থেকে ধীরে-সুস্থে থাকা পর্যন্ত, তিনটি প্ল্যান দিলাম।
আগে মৌসুম দেখে নিন। গত মৌসুমে (২০২৫–২৬) দ্বীপ খোলা ছিল ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি; নভেম্বরে শুধু দিনের ট্রিপ, আর ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে রাতে থাকা যেত। লেখার সময় (অক্টোবর ২০২৬) ২০২৬–২৭-এর নিয়ম প্রকাশ হয়নি।
যেকোনো প্ল্যানের আগে
- জাহাজের টিকিট আগে কাটুন। গত মৌসুমে প্রতিটি টিকিটের সঙ্গে ছিল QR কোডসহ ট্রাভেল পাস, আর দিনে সর্বোচ্চ ২,০০০ জন যেতে পারতেন।
- আগের রাতে কক্সবাজারে থাকুন, যাতে সকাল ৭টার জাহাজ না ফসকায়।
- নগদ টাকা রাখুন ভ্যান, নৌকা আর ছোট দোকানের জন্য।
- আবার ভরা যায় এমন পানির বোতল নিন। দ্বীপে পলিথিন নিষিদ্ধ।
প্ল্যান ১: দিনের ট্রিপ
- সকাল ৭টা: কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া জেটি থেকে জাহাজ।
- দুপুরের দিকে: দ্বীপের উত্তরের জেটিতে পৌঁছান।
- দুপুরের পর: সৈকতে একটু হাঁটা আর দুপুরের খাবার।
- বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা: কক্সবাজারের পথে ফেরার জাহাজ।
দিনের ট্রিপে দ্বীপে থাকা যায় মাত্র কয়েক ঘণ্টা, তার বেশিটা ভিড়ের জেটির আশপাশে। প্রথমবার এক নজর দেখার জন্য চলে, কিন্তু ভাটায় ছেঁড়াদ্বীপ বা রাতের আকাশ দেখা হয় না।
প্ল্যান ২: এক রাত (২ দিন ১ রাত)
- দিন ১, সকাল ৭টা: নুনিয়াছড়া জেটি থেকে জাহাজ।
- দিন ১, দুপুরের দিকে: পৌঁছে স্থানীয় ভ্যান, রিকশা বা বাইকে দক্ষিণে যান। এল মারেনায় চেক-ইন দুপুর ১টা থেকে।
- দিন ১, সন্ধ্যা: পাথুরে সৈকতে সূর্যাস্ত, তারপর রিসোর্টের বারবিকিউর জায়গায় সি-ফুড। গত মৌসুমে রাতে সৈকতে বারবিকিউ পার্টি নিষিদ্ধ ছিল।
- দিন ১, রাত: তারাভরা আকাশ — দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে শহরের আলো নেই।
- দিন ২, ভোরে: জাহাজ আসার আগে ভাটার সময় হেঁটে ছেঁড়াদ্বীপ। আগে জোয়ার-ভাটার সময় দেখে নিন।
- দিন ২, দুপুরের মধ্যে: দুপুর ১২টার মধ্যে চেক-আউট করে বিকেলের জাহাজ ধরতে জেটিতে ফিরুন।
প্ল্যান ৩: দুই রাত (৩ দিন ২ রাত)
ধীরে-সুস্থের প্ল্যান — মৌসুমে অনুমতি থাকলে আমরা এটাই বাছতাম।
- দিন ১: জাহাজ, দক্ষিণে যাওয়া, দুপুর ১টা থেকে চেক-ইন, সূর্যাস্ত আর সি-ফুড বারবিকিউ।
- দিন ২: ভোরে ভাটার সময় ছেঁড়াদ্বীপ, দুপুরটা কটেজে বা পাথুরে সৈকতে আরাম করে, রাতে তারা।
- দিন ৩: সূর্যোদয় আর নাশতা (ডুপ্লেক্স কটেজে কমপ্লিমেন্টারি), দুপুর ১২টার মধ্যে চেক-আউট, আর বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে ফেরার জাহাজ।
মাঝে পুরো একটা দিন থাকলে জোয়ার-ভাটার সঙ্গে দৌড়াতে হয় না, আর দ্বীপকে দেখা যায় সবচেয়ে শান্ত সময়ে: ভোরে আর সন্ধ্যার পর।

প্ল্যানে ছেঁড়াদ্বীপ
দ্বীপের দক্ষিণ থেকে ভাটার সময় বালু আর পাথরের ওপর দিয়ে হেঁটে ছেঁড়াদ্বীপে যাওয়া যায়; জোয়ারে সাগর পথ কেটে দেয়। মূল জেটি থেকে নৌকাও যায়। হাঁটার পথ আর নিয়মকানুন আছে আমাদের ছেঁড়াদ্বীপ গাইডে।
খরচ কেমন
গত মৌসুমে জাহাজে যাওয়া-আসার ভাড়া জনপ্রতি ৳৩,৫০০ থেকে শুরু ছিল। আমাদের ভাড়া পুরো কটেজ বা তাঁবুর: ৪ জনের ডুপ্লেক্স কটেজ ৳৪,০০০–৳৬,০০০, চারজনে ভাগ করলে জনপ্রতি ৳১,০০০ থেকে; ২ জনের সিঙ্গেল কটেজ ৳২,০০০–৳৩,০০০; আর ২ জনের তাঁবু ৳১,০০০–৳১,৫০০। সব মিলিয়ে হিসাব আছে আমাদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণে খরচ কত লেখায়।
আপনার প্ল্যান বুক করুন
হোয়াটসঅ্যাপে তারিখ, কতজন আসছেন আর কোন প্ল্যানটা পছন্দ জানান। কটেজ নিশ্চিত করব, আর একই চ্যাটে জাহাজের সিটও বুক করে দিতে পারি। দল বেঁধে আসছেন? দেখুন বন্ধুদের সঙ্গে সেন্টমার্টিন।




