ছেঁড়াদ্বীপ বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ বিন্দু, সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ প্রান্ত ঘেঁষে। ভাটার সময় হেঁটে বা নৌকায় কীভাবে যাবেন, কী নেবেন, আর কীভাবে ঘুরবেন যাতে জায়গাটার ক্ষতি না হয়।
ছেঁড়াদ্বীপ বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ বিন্দু: সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্ত ঘেঁষে কয়েকটি ছোট্ট দ্বীপের সমষ্টি। নামের মানেই মূল দ্বীপ থেকে ছিঁড়ে আলাদা হয়ে যাওয়া দ্বীপ। অনেকের কাছে পুরো ভ্রমণের সেরা অংশ এটাই, তবে একটু পরিকল্পনা লাগে, কারণ কখন হেঁটে যাওয়া যাবে তা ঠিক করে জোয়ার-ভাটা।
এখানে যে নিয়মের কথা আছে, সেগুলো গত মৌসুমের (২০২৫–২৬)। লেখার সময় (অক্টোবর ২০২৬) সরকার ২০২৬–২৭ মৌসুমের নির্দেশনা প্রকাশ করেনি; প্রকাশ হলেই এই লেখা হালনাগাদ করব।
ছেঁড়াদ্বীপ দেখতে কেমন
দোকানপাট আর ভিড় নয়, সেখানে পাবেন পাথর, বালু, স্বচ্ছ পানি আর খোলা আকাশ। ছায়া কম, চায়ের দোকানও হাতে গোনা দু-একটি। তাই ছোট একটা অভিযানের মতো তৈরি হয়ে যান: যা লাগবে সঙ্গে নিন, আর যা নিয়ে যাবেন সব ফিরিয়ে আনুন।
ছেঁড়াদ্বীপ সেন্টমার্টিনেরই অংশ, যা সরকার-ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা। এখানকার পাথর, প্রবাল আর সামুদ্রিক প্রাণীই জায়গাটাকে আলাদা করেছে, আর এগুলোর ক্ষতি খুব সহজেই হয়।

যাওয়ার দুটি উপায়
- ভাটার সময় হেঁটে। সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে ভাটার সময় বালু আর পাথরের ওপর দিয়ে হেঁটেই ছেঁড়াদ্বীপে যাওয়া যায়। জোয়ারে সাগর পথ কেটে দেয়।
- মূল জেটি থেকে নৌকায়। দ্বীপের উত্তরের জেটি থেকে ছেঁড়াদ্বীপে নৌকাও যায়।
জেটির দিক থেকে রওনা দিলে স্থানীয় ভ্যান, রিকশা বা বাইকে দ্বীপের দক্ষিণ অংশ অল্প পথ। ছেঁড়াদ্বীপের কাছে আমাদের এখানে থাকলে আপনি আগে থেকেই দ্বীপের ঠিক প্রান্তে আছেন, পায়ে হেঁটেই বেরিয়ে পড়তে পারবেন।
রওনা দেওয়ার আগে জোয়ার-ভাটা দেখে নিন
হেঁটে যাওয়া যায় শুধু ভাটার সময়। বের হওয়ার আগে সেদিনের জোয়ার-ভাটার সময় দেখে নিন, আর পানি বাড়ার আগেই ফেরার মতো যথেষ্ট সময় হাতে রাখুন। জোয়ার-ভাটা আপনার পরিকল্পনার সঙ্গে না মিললে নৌকায় যান। আমাদের এখানে থাকলে বের হওয়ার আগে রিসোর্টে জিজ্ঞেস করে নিন।
যান সকাল সকাল
সবচেয়ে ভালো সময় ভোর বা সকাল। তখন গরম কম, আলো নরম, আর দুপুরের দিকে জাহাজ ভিড়লে দিনের পর্যটকেরা আসার আগেই ছেঁড়াদ্বীপ প্রায় আপনার একার। ছেঁড়াদ্বীপের কাছে থাকলে সকাল সকাল বের হওয়াটা সহজ হয়।
সঙ্গে যা নেবেন
- বারবার ব্যবহার করা যায় এমন বোতলে পানি (দ্বীপে পলিথিন নিষিদ্ধ)
- টুপি, সানগ্লাস আর সানস্ক্রিন
- পাথরে হাঁটার জন্য স্যান্ডেল বা পানিতে চলার জুতা
- চা বা নৌকার জন্য কিছু নগদ টাকা
- নিজের ময়লা ফিরিয়ে আনার জন্য একটা ব্যাগ
এমনভাবে ঘুরুন যাতে ক্ষতি না হয়
গত মৌসুমে (২০২৫–২৬) সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের জন্য সরকারের নির্দেশনার মধ্যে এগুলো ছিল, আর ছেঁড়াদ্বীপে এগুলোই সবচেয়ে জরুরি:
- প্রবাল, কচ্ছপ, পাখি, কাঁকড়া, তারামাছ বা সামুদ্রিক শৈবালের ক্ষতি করা বা সংগ্রহ করা যাবে না।
- পলিথিন নিষিদ্ধ। একবার ব্যবহারের প্লাস্টিক এড়িয়ে চলুন, সঙ্গে রাখুন বারবার ব্যবহার করা যায় এমন বোতল।
- সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইক বা অন্য কোনো মোটরচালিত যান চালানো যাবে না।
- কেয়াবনে ঢোকা যাবে না, কেয়া ফল তোলা বা কেনাবেচা করা যাবে না।
পাথর আর ঝিনুক যেখানে আছে সেখানেই রেখে আসুন, আর নিজের সব ময়লা সঙ্গে ফিরিয়ে আনুন। মৌসুম আর বাকি নিয়মকানুন আছে আমাদের সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ গাইডে।

থাকুন ছেঁড়াদ্বীপের কাছে
এল মারেনা ইকো রিসোর্ট ছেঁড়াদ্বীপ সৈকতের কাছে, দ্বীপের নিরিবিলি দক্ষিণ প্রান্তে। এক রাত থাকলে সন্ধ্যায় পাথুরে সৈকতে সূর্যাস্ত, রাতে তারাভরা আকাশ, আর ভোরের আলোয় হেঁটে ছেঁড়াদ্বীপ — সবই হবে। কক্সবাজার থেকে আসার পথ আছে আমাদের সেন্টমার্টিন কীভাবে যাবেন লেখায়।




