মূল লেখায় যান
এল মারেনা
কাঠের ওয়াচটাওয়ার আর লাইফবয়সহ কটেজ

ছেঁড়াদ্বীপের কাছে রিসোর্ট: সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ মাথায় থাকা

ছেঁড়াদ্বীপই যদি যাওয়ার আসল কারণ হয়, তাহলে দ্বীপের দক্ষিণ মাথায় থাকুন। সেখানে থাকা কেমন, ‘ছেঁড়াদ্বীপের কাছে’ বলা যেকোনো রিসোর্টকে কী জিজ্ঞেস করবেন, আর আমাদের এখানে থাকা কেমন।

সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ মাথার ঠিক পাশের কয়েকটা ছোট দ্বীপ মিলে ছেঁড়াদ্বীপ, বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষিণের বিন্দু। মানুষ যখন ‘ছেঁড়া দ্বীপ রিসোর্ট’ খোঁজেন, সাধারণত বোঝান সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ মাথায় এমন একটা জায়গা, যেখান থেকে ভোরে হেঁটে ছেঁড়াদ্বীপে যাওয়া যায়। এল মারেনা ইকো রিসোর্ট ঠিক সেখানেই। এখানে থাকা কেমন, আর যেকোনো জায়গায় বুক করার আগে কী দেখে নেবেন, বলছি।

রাতে থাকা যাবে কি না, সেটা মৌসুমের নিয়মের ওপর। গত মৌসুমে (২০২৫–২৬) রাতে থাকা যেত ডিসেম্বর আর জানুয়ারিতে, নভেম্বরে না। লেখার সময় (অক্টোবর ২০২৬) ২০২৬–২৭-এর নিয়ম প্রকাশ হয়নি।

কেন ছেঁড়াদ্বীপের কাছে থাকবেন

  • ভোরের হাঁটা। ভাটার সময় দক্ষিণ থেকে বালু আর পাথরের ওপর দিয়ে হেঁটে ছেঁড়াদ্বীপে যাওয়া যায়। এখান থেকে ভোরের আলোতেই রওনা দিতে পারবেন, দুপুরে জাহাজে ডে-ট্রিপাররা আসার আগে।
  • নিরিবিলি। দ্বীপের ভিড়ের অংশ উত্তরে, জেটির আশপাশে। দক্ষিণে মানুষ কম, আর বিকেল ৩টার পর কোনো ভিড় নেই।
  • অন্ধকার রাত। আলো খুব কম, তাই আকাশভরা তারা।
  • পাথরের ওপর সূর্যাস্ত, জমে থাকা পানি সোনালি হয়ে যায়।

হাঁটার নিয়ম আমাদের ছেঁড়াদ্বীপ গাইডে, আর উত্তর না দক্ষিণ সেই তুলনা সেন্টমার্টিনে কোথায় থাকবেন লেখায়।

ভাটার সময় ছেঁড়াদ্বীপে ধারালো প্রবাল পাথর আর অগভীর পানি
ভাটার সময় ছেঁড়াদ্বীপে ধারালো প্রবাল পাথর আর অগভীর পানি · ছবি: Minhas Kamal (CC0), Wikimedia Commons থেকে

বুক করার আগে কী জিজ্ঞেস করবেন

  • আসলে কত কাছে? সৈকত আর যেখান থেকে ছেঁড়াদ্বীপে পার হয়, সেটা কত দূর জিজ্ঞেস করুন। ‘ছেঁড়াদ্বীপের কাছে’ একেক জায়গা একেক অর্থে বলে।
  • জেটি থেকে কীভাবে যাব? দ্বীপে গাড়ি নেই। কত সময় লাগে, ভাড়া কত, আর তারা ব্যবস্থা করে দেয় কি না জিজ্ঞেস করুন।
  • ভাড়া পুরো রুমের, নাকি জনপ্রতি? আর শুক্র-শনিবারে কি আলাদা?
  • বাথরুম সংযুক্ত, নাকি কমন?
  • সকালের নাশতা কি ভাড়ার মধ্যে?
  • চেক-ইন আর চেক-আউট কখন? জাহাজ পৌঁছায় দুপুরের দিকে, ছাড়ে বিকেল ৩টা থেকে ৩টা ৩০-এর মধ্যে।

বাকিটা ধাপে ধাপে আছে আমাদের সেন্টমার্টিন হোটেল বুকিং লেখায়।

এল মারেনা, ছেঁড়াদ্বীপ সৈকতের কাছে

আমরা দ্বীপের নিরিবিলি দক্ষিণ মাথায়, ছেঁড়াদ্বীপ সৈকতের কাছে। জেটি থেকে লোকাল ভ্যান, রিকশা বা বাইকে প্রায় ২৫ মিনিট, আর অতিথিদের জন্য আমরা বাইক বা অটো ঠিক করে দিতে পারি (টাকা লাগবে), যাতে পৌঁছেই কাউকে পান। চেক-ইন দুপুর ১টা থেকে, চেক-আউট দুপুর ১২টার মধ্যে।

সন্ধ্যার নরম আলোয় খুঁটির ওপর দাঁড়ানো ডুপ্লেক্স কটেজ
সন্ধ্যার নরম আলোয় খুঁটির ওপর দাঁড়ানো ডুপ্লেক্স কটেজ

কটেজ আর তাঁবু

  • ডুপ্লেক্স কটেজ, সর্বোচ্চ ৪ জন, ৳৪,০০০–৳৬,০০০: খুঁটির ওপর দোতলা কাঠের কটেজ, ডাবল বেড, ওপরে ঘুমানোর লফট, সংযুক্ত বাথরুম, বারান্দা, নিজস্ব হ্যামক আর ওপরে ওয়াচটাওয়ার। সকালের নাশতা ফ্রি। দেখুন ডুপ্লেক্স কটেজ।
  • সিঙ্গেল কটেজ, সর্বোচ্চ ২ জন, ৳২,০০০–৳৩,০০০: সাধারণ একটা ঘর, ডাবল বেড, ওয়ারড্রোব আর ফ্যান, বাথরুম কমন। দেখুন সিঙ্গেল কটেজ।
  • তাঁবু, ২ জন, ৳১,০০০–৳১,৫০০: সৈকতের কাছে, মেঝের তোশক, বালিশ আর বিছানার চাদরসহ, বাথরুম কমন। দেখুন তাঁবু।

ভাড়া পুরো কটেজ বা তাঁবুর, জনপ্রতি নয়, আর রবি থেকে বৃহস্পতিবার সবচেয়ে কম। চার বন্ধু মিলে সপ্তাহের মাঝে একটা ডুপ্লেক্স নিলে জনপ্রতি পড়ে ৳১,০০০।

কী ফ্রি, কী আলাদা

  • ফ্রি: একটা পানীয়, মিনারেল ওয়াটার আর ২৪ ঘণ্টা রুম সার্ভিস, সঙ্গে ফুটবল মাঠ আর শিশুদের খেলার জায়গা।
  • ডুপ্লেক্সের সঙ্গে ফ্রি: সকালের নাশতা।
  • টাকা লাগে: খোলা রেস্তোরাঁয় খাবার (সকাল, দুপুর আর রাত), বারবিকিউর জায়গায় মাছ বা মুরগি (শুধু খাবারের দাম), সৈকতে ক্যান্ডেললাইট ডিনার, আর জাহাজের টিকিট ও স্থানীয় যাতায়াতের ব্যবস্থা।
রাতে রঙিন লণ্ঠনে সাজানো আমাদের খোলা রেস্তোরাঁ
রাতে রঙিন লণ্ঠনে সাজানো আমাদের খোলা রেস্তোরাঁ

দক্ষিণ মাথায় একটা দিন

  • ভোরে: সূর্যোদয়, তারপর জোয়ার-ভাটা মিললে ভাটায় হেঁটে ছেঁড়াদ্বীপ।
  • সকালে: নাশতা, আর হ্যামক বা বারান্দায় একটু আরাম।
  • বিকেলে: ডে-ট্রিপাররা চলে গেলে পাথুরে তীর, ফুটবল, বা কিছুই না।
  • সন্ধ্যায়: পাথরের ওপর সূর্যাস্ত আর সেদিনের ধরা মাছে রাতের খাবার।
  • রাতে: তারা দেখা। আমাদের নীরবতার সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা।

আরও আইডিয়া আছে সেন্টমার্টিনে কী কী করবেন লেখায়।

হালকা পায়ে থাকা

রিসোর্টের বিদ্যুতের একটা অংশ আসে এখানকার সোলার প্যানেল থেকে, আর ব্যাকআপে আছে জেনারেটর, তাই আমরা নিজেদের ১০০% সোলার বলি না। রাতে আলো আর শব্দ কম রাখি, আর অতিথিদের দ্বীপের নিয়ম মানতে বলি: পলিথিন না, রাতে সৈকতে আলো বা জোরে গান না, আর তীর থেকে কিছু নেওয়া না। আরও পড়ুন ইকো রিসোর্ট আসলে কী।

ঝকঝকে নীল আকাশের নিচে ওয়াচটাওয়ার আর সোলার প্যানেলসহ ডুপ্লেক্স কটেজ
ঝকঝকে নীল আকাশের নিচে ওয়াচটাওয়ার আর সোলার প্যানেলসহ ডুপ্লেক্স কটেজ

বুকিং

হোয়াটসঅ্যাপে আপনার তারিখ আর কতজন আসছেন পাঠান। আমরা কটেজ বা তাঁবু নিশ্চিত করব, আর একই চ্যাটে জাহাজের সিটও বুক করে দিতে পারি। জাহাজের টিকিট আগে কাটুন: গত মৌসুমে প্রতিটা টিকিটে QR কোডসহ ট্রাভেল পাস লাগত, আর দিনে সর্বোচ্চ ২,০০০ জন যেতে পারতেন।

সব লেখা

প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ও উত্তর

ছেঁড়াদ্বীপ ঘুরতে কোথায় থাকা ভালো?
সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ মাথায়। সেখান থেকে ভোরে, ডে-ট্রিপাররা আসার আগে, ভাটার সময় হেঁটে ছেঁড়াদ্বীপে যাওয়া যায়।
জেটি থেকে এল মারেনায় কীভাবে যাব?
লোকাল ভ্যান, রিকশা বা বাইকে, প্রায় ২৫ মিনিট। অতিথিদের জন্য আমরা বাইক বা অটো ঠিক করে দিতে পারি (টাকা লাগবে)।
ছেঁড়াদ্বীপের কাছে রিসোর্টের ভাড়া কত?
এল মারেনায় ৪ জনের ডুপ্লেক্স কটেজ ৳৪,০০০–৳৬,০০০, ২ জনের সিঙ্গেল কটেজ ৳২,০০০–৳৩,০০০ আর ২ জনের তাঁবু ৳১,০০০–৳১,৫০০, পুরো কটেজ বা তাঁবুর ভাড়া।
কীভাবে বুক করব?
হোয়াটসঅ্যাপে তারিখ আর কতজন আসছেন পাঠান। আমরা থাকা নিশ্চিত করব, আর জাহাজের টিকিটও বুক করে দিতে পারি।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ গাইড

ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন?

হোয়াটসঅ্যাপে তারিখ আর কতজন যাচ্ছেন জানান। আমরা কটেজ নিশ্চিত করব, চাইলে জাহাজের টিকিটও বুক করে দেব।

হোয়াটসঅ্যাপে বুক করুন