ঝামেলা ছাড়া সেন্টমার্টিনে ঘর বুক করার ধাপগুলো: কোনটা আগে, কী জানাবেন, কী লিখিতভাবে নিশ্চিত করবেন, আর অগ্রিম টাকা কীভাবে দেবেন।
সেন্টমার্টিনের হোটেল বুকিং বেশির ভাগ হয় ফোনে বা হোয়াটসঅ্যাপে, আর দ্বীপের মৌসুমি নিয়মের কারণে মূল ভূখণ্ডের চেয়ে কয়েকটা ধাপ বেশি লাগে। ঠিক ক্রমে করলে একটা ছোট চ্যাটেই কাজ হয়ে যায়। দ্বীপের যেকোনো জায়গায় আমরা নিজেরা যেভাবে বুক করতাম, সেটা আগে বলছি; তারপর এল মারেনা ইকো রিসোর্টে বুকিং কীভাবে হয়।
রাতে থাকা যাবে কি না, তা নির্ভর করে মৌসুমের নিয়মের ওপর। গত মৌসুমে (২০২৫–২৬) ডিসেম্বর আর জানুয়ারিতে রাতে থাকা যেত, নভেম্বরে নয়। লেখার সময় (অক্টোবর ২০২৬) ২০২৬–২৭-এর নিয়ম প্রকাশ হয়নি।
ঠিক ক্রমে বুক করুন
- মৌসুমের নিয়ম দেখুন: আপনার তারিখে কি রাতে থাকা যাবে?
- জাহাজের সময় মিলিয়ে তারিখ বাছুন, আর দেখে নিন জাহাজে সিট আছে কি না।
- প্রশ্নগুলো করুন, আর দুই-তিনটি জায়গা তুলনা করুন।
- বুকিং লিখিতভাবে নিশ্চিত করুন: তারিখ, ঘর, কতজন অতিথি আর মোট ভাড়া।
- অগ্রিম দিন (যদি লাগে) — শুধু সেই চ্যাটে যেভাবে ঠিক হয়েছে, সেভাবে।
- নিশ্চিতকরণটা রেখে দিন জাহাজের টিকিটের সঙ্গে, পুরো ভ্রমণজুড়ে।
প্রথম দুটো ধাপই সবচেয়ে জরুরি। সেই সপ্তাহে দ্বীপে রাতে থাকার অনুমতি না থাকলে, বা জাহাজের সব সিট বিক্রি হয়ে গেলে, ঘর বুক করে লাভ নেই। গত মৌসুমে দিনে মাত্র ২,০০০ জন যেতে পারতেন, তাই জনপ্রিয় তারিখগুলো আগেই শেষ হয়ে যেত।
জাহাজের সময় মিলিয়ে তারিখ ঠিক করুন
পর্যটকবাহী জাহাজ কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া জেটি থেকে ছাড়ে সকাল ৭টার দিকে, পৌঁছাতে লাগে প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা, আর দ্বীপ থেকে ফেরে বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে। এতে বুকিংয়ে যা দাঁড়ায়:
- আপনি পৌঁছাবেন দুপুরের দিকে, তাই দুপুর ১টা থেকে চেক-ইন ভালোভাবে মেলে।
- ফিরবেন বিকেলে, তাই দুপুর ১২টার মধ্যে চেক-আউট করলে জেটিতে ফেরার সময় থাকে।
- শুক্রবার, শনিবার আর ছুটির দিনে দ্বীপে সবচেয়ে বেশি ভিড়।
রবি থেকে বৃহস্পতিবার ভিড় কম, আর আমাদের এখানে ভাড়াও নিয়মিত ভাড়ার অর্ধেক। দিন বাছতে কাজে লাগবে আমাদের সেন্টমার্টিন যাওয়ার সেরা সময় লেখা।
ঘর চাওয়ার সময় যা জানাবেন
- পৌঁছানো আর ফেরার তারিখ
- কতজন প্রাপ্তবয়স্ক আর কতজন শিশু
- কেমন ঘর চান, জানা থাকলে
- কোন জাহাজ আর কোন সিট, যদি ওরাই বুক করে দেয়
- বিশেষ কিছু থাকলে: জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, ক্যান্ডেললাইট ডিনার
প্রথম মেসেজটা পরিষ্কার হলে উত্তরও পরিষ্কার আসে, অনেক সময় এক মেসেজেই।

যা লিখিতভাবে নিশ্চিত করে নেবেন
- ঘরের ধরন আর কয়টি ঘর
- তারিখ আর অতিথির সংখ্যা
- মোট ভাড়া, আর সেটা পুরো ঘরের নাকি জনপ্রতি
- কী কী ভাড়ার মধ্যে ধরা (নাশতা, খাওয়ার পানি), আর কোনটার খরচ আলাদা
- চেক-ইন আর চেক-আউটের সময়
- এখন কত টাকা অগ্রিম, আর বাকিটা কীভাবে দেবেন
- আপনার তারিখের জন্য বাতিলের নিয়ম
এসব লেখা একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজই আপনার বুকিং। জাহাজে নেটওয়ার্ক না-ও থাকতে পারে, তাই একটা স্ক্রিনশট রেখে দিন।
অগ্রিম পেমেন্ট
দ্বীপের অনেক জায়গাই ঘর ধরে রাখতে অগ্রিম চায়। এটা স্বাভাবিক। কয়েকটা সহজ অভ্যাস একে নিরাপদ রাখে:
- বুকিং লিখিতভাবে নিশ্চিত হওয়ার পরেই টাকা দিন।
- শুধু সেই চ্যাটে দেওয়া নম্বর বা অ্যাকাউন্টেই টাকা পাঠান।
- পাঠানোর পর ট্রানজেকশন আইডি বা স্ক্রিনশট দিন, আর প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বলুন।
- বাকি টাকা কখন আর কীভাবে দেবেন, জিজ্ঞেস করে নিন।
এল মারেনায় তারিখ নিশ্চিত হলে আমরা চ্যাটেই পেমেন্টের তথ্য পাঠাই আর জানিয়ে দিই অগ্রিম লাগবে কি না। টাকা দিতে পারেন বিকাশ, নগদ, ব্যাংক ট্রান্সফার বা ক্যাশে।
টাকা দেওয়ার আগে বাতিলের নিয়ম জেনে নিন
পরিকল্পনা বদলায়, আর দ্বীপে সাগর আর মৌসুমের নিয়মও তা বদলে দিতে পারে। কিছু দেওয়ার আগে জিজ্ঞেস করুন বাতিল করলে কী হবে, আর আপনার তারিখে জাহাজ না ছাড়লে কী হবে। আমাদের বাতিলের নিয়ম আপনার তারিখ অনুযায়ী টাকা দেওয়ার আগেই চ্যাটে বুঝিয়ে দিই।
বুকিংয়ের ঝামেলা এড়াবেন যেভাবে
- সরাসরি জায়গাটির সঙ্গে, বা চেনা কোনো বুকিং সাইটে বুক করুন।
- ঠিক কোথায়, আর জেটি থেকে কীভাবে যাবেন, জেনে নিন।
- মৌসুমের নিয়ম ভাঙে এমন অফার থেকে সাবধান — যেমন টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ, বা রাতে সৈকতে বারবিকিউ পার্টি।
- ভাড়া যদি অন্য সব জায়গার চেয়ে অনেক কম হয়, জিজ্ঞেস করুন কী কী ধরা নেই।
এক চ্যাটেই এল মারেনা বুকিং
- হোয়াটসঅ্যাপে তারিখ আর কতজন যাচ্ছেন জানান, অথবা ফোন করুন।
- কোন কটেজ বা তাঁবু খালি আছে আর মোট ভাড়া কত, আমরা নিশ্চিত করি।
- পেমেন্টের তথ্য পাঠাই আর বাতিলের নিয়ম বুঝিয়ে দিই।
- চাইলে একই চ্যাটে জাহাজের সিটও বুক করে দিই, আগে চলতি ভাড়া নিশ্চিত করে।
- চ্যাটেই পেয়ে যান নিশ্চিতকরণ। দেখা হবে ছেঁড়াদ্বীপের কাছে।
কোনটায় থাকবেন ঠিক করতে পারছেন না? আগে পড়ুন সেন্টমার্টিন দ্বীপের হোটেল, অথবা দেখুন ডুপ্লেক্স কটেজ। সহজ ভাষায় সব নিয়ম আছে আমাদের নীতিমালা পাতায়।




