সেন্টমার্টিনে হোটেল বাছবেন যেভাবে: আগে মৌসুমের নিয়ম দেখুন, তারপর দ্বীপের কোন প্রান্ত আর কেমন ঘর, আর অগ্রিম দেওয়ার আগে আটটি প্রশ্ন।
সেন্টমার্টিনের হোটেল খুঁজলেই অনেক নাম, ছবি আর ভাড়ার লম্বা তালিকা আসে। দ্বীপটা ছোট, তাই আসল সিদ্ধান্ত চারটি: আপনার তারিখে রাতে থাকা যাবে কি না, দ্বীপের কোন প্রান্তে থাকবেন, কেমন ঘর লাগবে, আর ভাড়ার মধ্যে কী কী ধরা। আমরা ছেঁড়াদ্বীপের কাছে এল মারেনা ইকো রিসোর্ট চালাই, তাই নিজেদের কথা বলার সময় সেটা স্পষ্ট করেই বলব।
রাতে থাকা যাবে কি না, তা নির্ভর করে মৌসুমের নিয়মের ওপর। গত মৌসুমে (২০২৫–২৬) ডিসেম্বর আর জানুয়ারিতে রাতে থাকা যেত, নভেম্বরে নয়। লেখার সময় (অক্টোবর ২০২৬) ২০২৬–২৭-এর নিয়ম প্রকাশ হয়নি।
আগে দেখুন: রাতে থাকা যাবে তো?
সেন্টমার্টিন সরকার-ঘোষিত প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা, তাই পর্যটকেরা কখন যেতে পারবেন আর রাতে থাকতে পারবেন কি না, তা সরকার প্রতি বছর ঠিক করে। ২০২৫–২৬ মৌসুমে দ্বীপ খোলা ছিল ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি; নভেম্বরে শুধু দিনে গিয়ে দিনেই ফেরা যেত, আর দিনে সর্বোচ্চ ২,০০০ জন যেতে পারতেন।
তাই হোটেল তুলনা করার আগে দেখে নিন, আপনার তারিখে রাতে থাকা যাবে কি না। ভালো হোটেল না গেলে সেটা সোজাসুজিই বলবে। মাস ধরে মৌসুমের হিসাব আছে আমাদের সেন্টমার্টিন যাওয়ার সেরা সময় লেখায়।
দ্বীপের দুই প্রান্ত, দুই রকম
জেটির দিক (উত্তর)। জাহাজ ভেড়ে দ্বীপের উত্তরের জেটিতে, যেটা দ্বীপের সবচেয়ে ভিড়ের অংশ। দিনে গিয়ে দিনে ফেরা পর্যটকেরা তাঁদের অল্প সময়টা এদিকেই কাটান, তাই দিনের বেলা জায়গাটা জমজমাট। এদিকে থাকলে জেটির কাছে থাকবেন — আর ভিড়েরও।
ছেঁড়াদ্বীপের আশপাশে দক্ষিণ। দক্ষিণ প্রান্ত অনেক নিরিবিলি — পাথুরে সৈকত, কম মানুষ, আর রাতে অন্ধকার, তারাভরা আকাশ। এখান থেকে ভোরে ভাটার সময় হেঁটে ছেঁড়াদ্বীপে যাওয়া যায়, দিনের পর্যটকেরা আসার আগেই। জেটি থেকে স্থানীয় ভ্যান, রিকশা বা বাইকে অল্প পথ।
দুই প্রান্তের বিস্তারিত তুলনা আছে সেন্টমার্টিনে কোথায় থাকবেন লেখায়।

হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ, নাকি তাঁবু?
দ্বীপে সব ধরনের থাকার জায়গাকেই লোকে "হোটেল" বলে, কিন্তু সাইনবোর্ডের নামের চেয়ে ঘরটা কেমন, তাতেই ভ্রমণ বেশি বদলায়। সাধারণত কোনটা কী বোঝায়:
- হোটেল বা গেস্টহাউসের ঘর: কোনো ভবনের একটি ঘর। জিজ্ঞেস করুন বাথরুম অ্যাটাচড কি না, আর আপনি যেখানে সময় কাটাতে চান সেখান থেকে কত দূর।
- রিসোর্ট: নিজস্ব আঙিনায় ঘর বা কটেজ, প্রায়ই রেস্তোরাঁ আর খোলা জায়গাসহ। জিজ্ঞেস করুন আসলে কী কী আছে, আর অতিথিদের জন্য কোনটা ফ্রি।
- কটেজ: আলাদা ছোট একটি ঘর, বেশি নিরিবিলি আর নিজস্বতা। জিজ্ঞেস করুন কতজন থাকা যায়, আর বাথরুম ভেতরে কি না।
- তাঁবু: সৈকতের কাছে রাত কাটানোর সবচেয়ে কম খরচের উপায়। বাথরুম সাধারণত কমন, তাই জিজ্ঞেস করুন সেটা কোথায়, কত কাছে।
এল মারেনায় থাকার তিন রকম ব্যবস্থা: সর্বোচ্চ ৪ জনের খুঁটির ওপর দোতলা ডুপ্লেক্স কটেজ (৳৪,০০০–৳৬,০০০) — অ্যাটাচড বাথরুম, বারান্দা, হ্যামক আর ওয়াচটাওয়ারসহ; ২ জনের সিঙ্গেল কটেজ (৳২,০০০–৳৩,০০০) — কমন বাথরুম; আর সৈকতের কাছে ২ জনের তাঁবু (৳১,০০০–৳১,৫০০)।

ঘরের ভাড়া কেমন
দ্বীপে ভাড়া বদলায় সপ্তাহের দিন আর মৌসুম অনুযায়ী, তাই অনলাইনে যে অঙ্ক দেখছেন, শেষে সেটাই দিতে হবে এমন নয়। সবচেয়ে বড় ফাঁদ হলো পুরো ঘরের ভাড়া, নাকি জনপ্রতি — সবসময় জিজ্ঞেস করে নিন।
আমাদের ভাড়া পুরো কটেজ বা তাঁবুর, জনপ্রতি নয়। রবি থেকে বৃহস্পতিবার আমাদের নিয়মিত ভাড়ার অর্ধেক, আর শুক্র-শনিবার ২৫% ছাড়। চারজনে একটি ডুপ্লেক্স ভাগ করলে জনপ্রতি পড়ে ৳১,০০০। জাহাজ আর খাবারসহ পুরো বাজেট আছে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে কত খরচ লেখায়।
অগ্রিম দেওয়ার আগে যে আটটি বিষয় দেখবেন
- এই মৌসুমে আমার তারিখে কি রাতে থাকা যাবে?
- ভাড়া কি পুরো ঘরের, নাকি জনপ্রতি? শুক্র-শনিবার কি আলাদা?
- বাথরুম অ্যাটাচড, নাকি কমন?
- জায়গাটা ঠিক কোথায়, আর জেটি থেকে কীভাবে যাব?
- চেক-ইন আর চেক-আউট কি জাহাজের সময়ের সঙ্গে মেলে? (জাহাজ পৌঁছায় দুপুরের দিকে, দ্বীপ ছাড়ে বিকেল ৩টার দিকে।)
- নাশতা বা খাওয়ার পানির মতো কী কী ভাড়ার মধ্যে ধরা, আর কোনটার খরচ আলাদা?
- কত টাকা অগ্রিম লাগবে, কীভাবে দেব, আর বাতিল করলে কী হবে?
- তারিখ, ঘর আর মোট ভাড়া লিখে কি বুকিং নিশ্চিত করবেন?
আমাদের উত্তর: রাতে থাকা মৌসুমের নিয়ম মেনে, জিজ্ঞেস করলেই জানিয়ে দিই; ভাড়া পুরো কটেজ বা তাঁবুর; ডুপ্লেক্সে অ্যাটাচড বাথরুম, সিঙ্গেল কটেজ আর তাঁবুতে কমন বাথরুম; আমরা ছেঁড়াদ্বীপের কাছে, জেটি থেকে দক্ষিণে অল্প পথ; চেক-ইন দুপুর ১টা থেকে আর চেক-আউট দুপুর ১২টার মধ্যে; আর পেমেন্ট ও বাতিলের নিয়মসহ সবকিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটেই নিশ্চিত করি।
বুকিং রাখুন লিখিত আকারে
দ্বীপের বেশির ভাগ বুকিং হয় ফোনে বা হোয়াটসঅ্যাপে। তাতে সমস্যা নেই, যদি বুকিংটা লিখিত থাকে: তারিখ, ঘর, কতজন অতিথি আর মোট ভাড়া। মেসেজটা জাহাজের টিকিটের সঙ্গে রেখে দিন।
মৌসুমের নিয়মে যা চলে না, তেমন কিছু কেউ অফার করলে সাবধান — যেমন টেকনাফ থেকে পর্যটকের সিট, বা রাতে সৈকতে বারবিকিউ পার্টি। একটা প্রতিশ্রুতিই যদি নিয়ম ভাঙে, বাকিগুলো কতটা সত্যি, ভেবে দেখুন।
জাহাজ আর ঘর একসঙ্গে বুক করুন
একই তারিখে জাহাজের সিট না পেলে ঘর বুক করে লাভ নেই। গত মৌসুমে প্রতিটি টিকিটের সঙ্গে কিউআর কোডসহ ট্রাভেল পাস ছিল, আর দিনে মাত্র ২,০০০ জন যেতে পারতেন, তাই জনপ্রিয় তারিখগুলো আগেই শেষ হয়ে যেত। ছুটির দিন আর সাপ্তাহিক ছুটির জন্য দুটোই আগে বুক করুন। সব জাহাজ আর ভাড়ার তালিকা আছে সেন্টমার্টিনের জাহাজের টিকিট লেখায়।
আমাদের এখানে থাকলে কটেজের সঙ্গে একই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে জাহাজের সিটও বুক করে দিতে পারি, আর টাকা দেওয়ার আগে চলতি ভাড়া নিশ্চিত করে নিই।
নিরিবিলি দক্ষিণ চাইলে
এল মারেনা ইকো রিসোর্ট দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে, ছেঁড়াদ্বীপ সৈকতের কাছে। প্রতিটি কটেজের সঙ্গে কমপ্লিমেন্টারি একটি পানীয়, মিনারেল ওয়াটার আর ২৪ ঘণ্টা রুম সার্ভিস, আর সব অতিথির জন্য আছে খোলা আকাশের নিচে সামুদ্রিক খাবারের রেস্তোরাঁ, বারবিকিউর জায়গা, ফুটবল মাঠ আর শিশুদের খেলার জায়গা। সাইটের সোলার প্যানেল রিসোর্টের বিদ্যুতে সাহায্য করে। আমাদের সম্পর্কে আরও আছে আমাদের কথা পাতায়।



