মূল লেখায় যান
এল মারেনা
দ্বীপের গ্রাম, গাছপালা আর উপকূলের আকাশ থেকে তোলা দৃশ্য

প্রবাল সংরক্ষণ ও দ্বীপের নিয়ম: পরিবেশ বাঁচিয়ে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ

সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ এবং প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা। সরকারি পরিবেশ রক্ষার নিয়ম, প্রবাল ও সৈকতের ক্ষতি না করে ঘুরে দেখার উপায় এবং দায়িত্বশীল ভ্রমণের পরামর্শ।

সেন্টমার্টিন দ্বীপ ছোট, সমতল এবং চারপাশে ঘেরা জীবন্ত প্রবালে। এটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, আর প্রতি শীতে এর ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি পর্যটক এখানে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রবাল, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য আর পাথুরে সৈকতই সেন্টমার্টিনের আসল সৌন্দর্য, আর এই নাজুক পরিবেশ বাঁচিয়ে না রাখলে দ্বীপ তার রূপ হারাবে।

এখানে উল্লিখিত নিয়মাবলী বিগত ২০২৫–২৬ মৌসুমের সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতে তৈরি। লেখার সময় (অক্টোবর ২০২৬) সরকার ২০২৬–২৭ মৌসুমের আনুষ্ঠানিক পরিপত্র প্রকাশ করেনি; নতুন প্রজ্ঞাপন এলেই তা হালনাগাদ করা হবে।

প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা

প্রবাল প্রাচীর, সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ার জায়গা এবং বিরল জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য সরকার সেন্টমার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ECA) হিসেবে ঘোষণা করেছে। পর্যটন চলে সরকার-নির্ধারিত নির্দিষ্ট শীতকালীন মৌসুমে, যেখানে দৈনিক পর্যটক সংখ্যা সীমিত রাখা ও ট্রাভেল পাস বাধ্যতামূলক করা হয়।

এই নিয়মগুলোকে বাধা নয়, বরং সেন্টমার্টিনকে বাঁচিয়ে রাখার কবচ হিসেবে দেখা উচিত। দ্বীপের প্রতি যত্নশীল থাকা এবং এখানকার প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে সম্মান জানানোই একজন ভালো পর্যটকের প্রধান পরিচয়।

দ্বীপের প্রধান পাঁচটি নিয়ম

পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সেন্টমার্টিন ভ্রমণে প্রতিটি পর্যটকের জন্য এই পাঁচটি মৌলিক নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক:

  • রাতে সৈকতে চড়া আলো, গানবাজনা বা বারবিকিউ নিষেধ। সৈকতে রাতের বেলা জোরালো আলো ও কোলাহল বিপন্ন অলিভ রিডলি কচ্ছপের ডিম পাড়ায় বাধা দেয়। তাই সূর্যাস্তের পর সৈকতে বারবিকিউ পার্টি বা আগুন জ্বালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  • সৈকতে কোনো মোটরযান চালানো যাবে না। সৈকতের বালুর ওপর মোটরসাইকেল, সি-বাইক বা অন্য কোনো ইঞ্জিনচালিত যান চালানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, যাতে বালিয়াড়ি ও প্রাণীদের আবাস অক্ষুণ্ণ থাকে।
  • কেয়াবনে ঢোকা ও কেয়া ফল সংগ্রহ নিষেধ। দ্বীপের প্রাকৃতিক কেয়াবন ভাঙন ও সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করে। কেয়া ফল ছেঁড়া, বিক্রি করা বা কেনা আইনত দণ্ডনীয়।
  • প্রবাল ও সামুদ্রিক প্রাণীর কোনো ক্ষতি করা বা সংগ্রহ করা যাবে না। জীবিত বা মৃত প্রবাল, শামুক-ঝিনুক, তারামাছ, কাঁকড়া বা সামুদ্রিক শৈবাল ধরা, ক্ষতি করা বা সঙ্গে নিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ।
  • পলিথিন ব্যাগ পুরোপুরি নিষিদ্ধ। দ্বীপে পলিথিন বহন বা ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বারবার ব্যবহারযোগ্য বোতলে পানি পান করুন এবং যেকোনো অপচনশীল বর্জ্য নিজের ব্যাগে করে মূল ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়ে যান।
রোদেলা দিনে পাথুরে সৈকত আর স্বচ্ছ সমুদ্র
রোদেলা দিনে পাথুরে সৈকত আর স্বচ্ছ সমুদ্র

ছেঁড়াদ্বীপে পরিবেশ রক্ষা

ছেঁড়াদ্বীপ সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ অংশ। ভাটার সময় বালু আর প্রবাল-পাথরের পথ দিয়ে হেঁটেই এখানে পৌঁছানো যায়। ছেঁড়াদ্বীপে কোনো স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা বাজার নেই, তাই সেখানে ভ্রমণের সময় বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন।

ভাটার পথে হাঁটার সময় কেবল বালু ও শক্ত পাথরের ওপর পা রাখুন। জীবন্ত প্রবালের ওপর ভুলেও পা দেবেন না। জোয়ার-ভাটা আর নৌকার বিস্তারিত পরামর্শের জন্য আমাদের ছেঁড়াদ্বীপ ভ্রমণ গাইড দেখুন।

তাড়াহুড়োর চেয়ে ধীরস্থির ভ্রমণ পরিবেশের জন্য ভালো

কক্সবাজার থেকে জাহাজে এসে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ডে-ট্রিপে মূল জেটির আশপাশে প্রচুর ভিড় তৈরি হয়। অন্যদিকে এক বা দুই রাত থাকলে আপনি শান্তভাবে দ্বীপটাকে উপভোগ করতে পারবেন: মিষ্টি ভোর, পশ্চিম সৈকতের পাথরে সূর্যাস্ত আর রাতের আলোহীন আকাশে তারার মেলা।

পাথুরে সৈকত আর জমে থাকা পানির ওপর সূর্যাস্ত
পাথুরে সৈকত আর জমে থাকা পানির ওপর সূর্যাস্ত

এল মারেনা ইকো রিসোর্টের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ

এল মারেনায় আমরা কেবল মুখে ইকো বলি না, কাজেও পরিমিতিবোধ মেনে চলি। রিসোর্টে বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়, আর সৈকতের ক্ষতি এড়াতে বারবিকিউ আয়োজন করা হয় আমাদের নিজস্ব আঙিনায়।

আমরা প্রতিটি অতিথিকে নিজের অপচনশীল বর্জ্য সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানাই। দ্বীপের বিশদ তথ্যের জন্য আমাদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড এবং রিসোর্টের নিয়মাবলী পড়ে নিন।

পরিবেশবান্ধব ভ্রমণের প্যাকিং তালিকা

  • পুনরায় ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল (পলিথিন বা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নয়)
  • রোদে রক্ষার জন্য হ্যাট বা টুপি, সানগ্লাস আর সানস্ক্রিন
  • পাথুরে সৈকতে হাঁটার উপযোগী স্যান্ডেল বা পানিতে চলার জুতা
  • টর্চ বা হেডল্যাম্প এবং পাওয়ার ব্যাংক (শান্ত দক্ষিণ প্রান্তে রাতে কোনো কৃত্রিম স্ট্রিটলাইট নেই)
  • নিজের ময়লা জমিয়ে মূল ভূখণ্ডে ফেরত আনার জন্য ছোট কাপড়ের ব্যাগ
  • কিউআর কোডসহ সরকারি ট্রাভেল পাসযুক্ত জাহাজের টিকিট ও জাতীয় পরিচয়পত্র

থাকুন দ্বীপের শান্ত দক্ষিণ প্রান্তে

এল মারেনা ইকো রিসোর্ট সেন্টমার্টিনের শান্ত দক্ষিণ কোণে ছেঁড়াদ্বীপ সৈকতের কাছে অবস্থিত। কাঠের ডুপ্লেক্স কটেজ, সিঙ্গেল কটেজ বা সৈকতের কাছের তাঁবুতে কোলাহলমুক্ত নিরিবিলি রাত কাটাতে চাইলে হোয়াটসঅ্যাপে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

সব লেখা

প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ও উত্তর

সেন্টমার্টিন বা ছেঁড়াদ্বীপ থেকে কি স্মারক হিসেবে প্রবাল বা ঝিনুক সংগ্রহ করা যাবে?
না। মৃত বা জীবিত প্রবাল, শামুক-ঝিনুক, তারামাছ বা পাথর সংগ্রহ করা পরিবেশ আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দ্বীপের ভারসাম্য রক্ষায় সবকিছু যেখানে আছে সেখানেই রেখে আসতে হবে।
সেন্টমার্টিনে কি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করা যায়?
না। দ্বীপে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পুনরায় ব্যবহারযোগ্য কাপড়ের ব্যাগ এবং রিফিলেবল পানির বোতল সঙ্গে রাখুন।
রাতে সৈকতে কি বারবিকিউ বা গানবাজনা করা যাবে?
না। সামুদ্রিক কচ্ছপ ও দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় সৈকতে রাতে আগুন, বারবিকিউ, চড়া আলো বা গানবাজনা নিষিদ্ধ। এল মারেনায় বারবিকিউ হয় সৈকত থেকে দূরে আমাদের নিজস্ব নির্দিষ্ট চত্বরে।
এল মারেনা ইকো রিসোর্টে কী কী পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ রয়েছে?
আমরা সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে বিদ্যুতের জোগান দিই, সৈকতের বাইরে নিজস্ব আঙিনায় বারবিকিউ সীমাবদ্ধ রাখি, সৈকতে কোনো কোলাহলপূর্ণ পার্টি করি না এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অতিথিদের সচেতন করি।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ গাইড

ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন?

হোয়াটসঅ্যাপে তারিখ আর কতজন যাচ্ছেন জানান। আমরা কটেজ নিশ্চিত করব, চাইলে জাহাজের টিকিটও বুক করে দেব।

হোয়াটসঅ্যাপে বুক করুন