সেন্টমার্টিন ট্যুর প্যাকেজে সাধারণত কী থাকে, কাউকে টাকা দেওয়ার আগে যে দশটি প্রশ্ন করবেন, আর ধাপে ধাপে নিজেই একই ভ্রমণ সাজানোর উপায়।
অনেকেই ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে ট্যুর প্যাকেজে সেন্টমার্টিন যান: বাস, জাহাজ, ঘর আর কিছু খাবার — সব এক দামে। প্যাকেজ সুবিধাজনক হতে পারে, তবে একটার সঙ্গে আরেকটার অনেক পার্থক্য, আর সবচেয়ে সস্তাটাই সবসময় সেরা নয়। যেকোনো প্যাকেজে কী দেখবেন, আর একই ভ্রমণ নিজে কীভাবে সাজাবেন, তা এখানে।
রাতে থাকা যাবে কি না, তা নির্ভর করে মৌসুমের নিয়মের ওপর। গত মৌসুমে (২০২৫–২৬) ডিসেম্বর আর জানুয়ারিতে রাতে থাকা যেত, নভেম্বরে নয়। লেখার সময় (অক্টোবর ২০২৬) ২০২৬–২৭-এর নিয়ম প্রকাশ হয়নি।
প্যাকেজে সাধারণত যা থাকে
প্রতিটি প্যাকেজ আলাদা, তবে বেশির ভাগই একই কয়েকটা অংশ দিয়ে তৈরি:
- ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাতায়াত (প্রায়ই রাতের বাস)
- কক্সবাজার থেকে দ্বীপে যাওয়া-আসার জাহাজের সিট
- এক বা একাধিক রাতের জন্য একটি ঘর
- কিছু বেলার খাবার
- দ্বীপে স্থানীয় যাতায়াত, কখনো ছেঁড়াদ্বীপ ভ্রমণও
দাম নির্ভর করে এর কোনগুলো ধরা আছে আর প্রতিটা কেমন মানের তার ওপর। একই দামের দুটি প্যাকেজ পুরোপুরি আলাদা ভ্রমণ হতে পারে।
টাকা দেওয়ার আগে যে দশটি প্রশ্ন করবেন
- এই মৌসুমে এই তারিখগুলোতে কি রাতে থাকা যাবে?
- কোন জাহাজ, কোন সিট, আর টিকিটে কি কিউআর কোডসহ সরকারি ট্রাভেল পাস আছে?
- জাহাজ কি কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া জেটি থেকে ছাড়বে? (গত মৌসুমে পর্যটকবাহী জাহাজ টেকনাফ থেকে ছাড়েনি।)
- কক্সবাজার যাব কীভাবে, আর সকাল ৭টার জাহাজের আগে কি পৌঁছাব?
- ঠিক কোন হোটেল বা রিসোর্ট, আর দ্বীপের কোন প্রান্তে?
- ঘরে কি অ্যাটাচড বাথরুম, নাকি কমন — আর কতজন মিলে থাকব?
- কোন কোন বেলার খাবার ধরা?
- ছেঁড়াদ্বীপ ভ্রমণ কি ধরা, আর তা কি ভাটার সময় মিলিয়ে?
- আবহাওয়ার কারণে জাহাজ না ছাড়লে কী হবে?
- অগ্রিম কত, আর বাতিল করলে কত ফেরত পাব?
ভালো আয়োজক দশটি প্রশ্নেরই পরিষ্কার, লিখিত উত্তর দেবে। মৌসুমের নিয়মে চলে না এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্যাকেজ থেকে সাবধান — যেমন টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ, বা রাতে সৈকতে বারবিকিউ পার্টি।

পাঁচ ধাপে নিজেই সাজান ভ্রমণ
- তারিখ বাছুন যখন রাতে থাকার অনুমতি আছে; রবি থেকে বৃহস্পতিবার ভিড় কম।
- কক্সবাজার পৌঁছান বাস, ট্রেন বা প্লেনে, সম্ভব হলে আগের সন্ধ্যায়।
- জাহাজ বুক করুন নুনিয়ারছড়া জেটি থেকে: ছাড়ে সকাল ৭টার দিকে, লাগে প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা।
- থাকার জায়গা বুক করুন, আর বেছে নিন দ্বীপের কোন প্রান্ত: ভিড়ের জেটির দিক, নাকি নিরিবিলি দক্ষিণ।
- পছন্দের বাড়তি জিনিস যোগ করুন: খাবার, ক্যান্ডেললাইট ডিনার, দ্বীপে ঘোরার বাইক বা অটো।
দ্বিতীয় আর তৃতীয় ধাপের বিস্তারিত আছে সেন্টমার্টিন যাবেন কীভাবে লেখায়।
তৃতীয় থেকে পঞ্চম ধাপ, এক চ্যাটে
ছেঁড়াদ্বীপের কাছে এল মারেনা ইকো রিসোর্টে থাকলে পরিকল্পনার বেশির ভাগটাই আমরা এক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে আপনার সঙ্গে করে ফেলতে পারি। আমরা নির্দিষ্ট প্যাকেজ বিক্রি করি না; অংশগুলো আপনিই বাছেন:
- থাকা: সর্বোচ্চ ৪ জনের ডুপ্লেক্স কটেজ (৳৪,০০০–৳৬,০০০, ব্রেকফাস্টসহ), ২ জনের সিঙ্গেল কটেজ (৳২,০০০–৳৩,০০০) বা ২ জনের তাঁবু (৳১,০০০–৳১,৫০০)।
- জাহাজের সিট: থাকার সঙ্গেই বুক করে দিই, আর টাকা দেওয়ার আগে চলতি ভাড়া নিশ্চিত করি (গত মৌসুমে আসা-যাওয়া জনপ্রতি ৳৩,৫০০ থেকে)।
- বাড়তি: সৈকতে ক্যান্ডেললাইট ডিনার, সামুদ্রিক খাবারের বারবিকিউ, দ্বীপে ঘোরার বাইক বা অটো — প্রতিটির খরচ আলাদা।
প্রতিটি অংশের দাম পরিষ্কার জানবেন, আর শুধু যা বাছবেন তারই দাম দেবেন।
প্যাকেজ না নিজের পরিকল্পনা — কোনটায় খরচ কম?
দলের ওপর নির্ভর করে। একা গেলে, ভাগ করা ঘরসহ কোনো প্যাকেজে খরচ কম পড়তে পারে। চারজনের দল হলে নিজেরা পরিকল্পনা করে একটি ডুপ্লেক্স কটেজ ভাগ করলে অনেক সময় জনপ্রতি খরচ কম পড়ে, আর কোথায় থাকবেন তা-ও নিজেরাই ঠিক করেন। উদাহরণ বাজেট আছে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে কত খরচ লেখায়, আর ঘরের তুলনা আছে সেন্টমার্টিনের রিসোর্টের ভাড়া লেখায়।
ঢাকা থেকে সহজ একটি পরিকল্পনা
- আগের রাত: ঢাকা থেকে কক্সবাজার।
- প্রথম দিন, সকাল ৭টা: নুনিয়ারছড়া জেটি থেকে জাহাজ; দুপুরের দিকে পৌঁছে দক্ষিণে। চেক-ইন দুপুর ১টা থেকে।
- প্রথম দিন, সন্ধ্যা: পাথরের ওপর সূর্যাস্ত, রিসোর্টে সামুদ্রিক খাবার।
- দ্বিতীয় দিন, ভোর: ভাটায় হেঁটে ছেঁড়াদ্বীপ। চেক-আউট দুপুর ১২টার মধ্যে।
- দ্বিতীয় দিন, বিকেল ৩টার দিকে: জাহাজে কক্সবাজার, তারপর বাড়ি।
পরিকল্পনা শুরু করুন
হোয়াটসঅ্যাপে তারিখ, কতজন যাচ্ছেন আর কী কী চান জানান। বুকিং কীভাবে হয়, তা আছে সেন্টমার্টিনে হোটেল বুক করবেন যেভাবে লেখায়।




