পুরো পথ এক জায়গায়: কক্সবাজারে পৌঁছানো, নুনিয়াছড়া জেটি থেকে সকাল ৭টার জাহাজ, টেকনাফ বা চট্টগ্রাম থেকে কেন পর্যটক জাহাজ নেই, আর জেটি থেকে ছেঁড়াদ্বীপের দিকে যাওয়া।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ বঙ্গোপসাগরে, বাংলাদেশের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তের কাছে, আর সেখানে যাওয়ার একমাত্র পথ সাগর। গত কয়েক বছরে যাওয়ার পথ বদলেছে, তাই পুরোনো ব্লগ বা ভিডিও দেখে অনেকে ভুল পথে রওনা দেন। গত মৌসুমে কীভাবে যাওয়া যেত, যেখান থেকেই শুরু করুন, ধাপে ধাপে এখানে দিলাম।
লেখার সময় (অক্টোবর ২০২৬) সরকার ২০২৬–২৭ মৌসুমের নির্দেশনা প্রকাশ করেনি। প্রকাশ হলেই এই লেখা হালনাগাদ করব। সর্বশেষ তথ্যের জন্য হোয়াটসঅ্যাপে জিজ্ঞেস করুন।
চার ধাপে পুরো পথ
- কক্সবাজারে পৌঁছান ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে বাস, ট্রেন বা বিমানে, সম্ভব হলে আগের সন্ধ্যায়।
- পর্যটকবাহী জাহাজে উঠুন কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া জেটি থেকে, সকাল ৭টার দিকে।
- দ্বীপে পৌঁছান প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টায়। জাহাজ ভেড়ে দ্বীপের উত্তরের জেটিতে।
- দক্ষিণে যান স্থানীয় ভ্যান, রিকশা বা বাইকে, ছেঁড়াদ্বীপ আর দ্বীপের নিরিবিলি প্রান্তের দিকে।
ধাপ ১: ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার
সেন্টমার্টিনের প্রতিটি যাত্রা এখন শুরু হয় কক্সবাজার থেকে। ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে বাস, ট্রেন বা বিমান — যেটা আপনার বাজেট আর সময়ের সঙ্গে মেলে, সেটাতেই যান।
একটা কথা মনে রাখুন: জাহাজ ছাড়ে সকাল ৭টার দিকে। রাতের বাস রাস্তায় দেরি করলে সময়মতো না-ও পৌঁছাতে পারে, তাই সবচেয়ে নিরাপদ হলো আগের সন্ধ্যায় কক্সবাজারে পৌঁছে জেটির কাছাকাছি রাত কাটানো।
চট্টগ্রাম থেকে কি সরাসরি জাহাজ আছে?
অনেকেই খোঁজেন চট্টগ্রাম থেকে সেন্টমার্টিনের সরাসরি জাহাজ। গত মৌসুমে (২০২৫–২৬) পর্যটকদের জন্য তা ছিল না: পর্যটকবাহী জাহাজ ছেড়েছে শুধু কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া জেটি থেকে। চট্টগ্রাম থেকে আগে সড়ক, রেল বা আকাশপথে কক্সবাজারে আসুন, তারপর সেখান থেকে জাহাজে। ২০২৬–২৭-এ সরাসরি পথ অনুমোদন পেলে এখানে যোগ করব।
টেকনাফ থেকে এখন কেন নয়?
সেন্টমার্টিন টেকনাফ উপজেলার অংশ, আর বহু বছর জাহাজ ছাড়ত টেকনাফ থেকেই। সেটা বদলেছে: ২০২৫–২৬ মৌসুম থেকে নিয়ম অনুযায়ী টেকনাফ থেকে ছাড়া জাহাজে পর্যটক নেওয়া হয় না। কেউ টেকনাফ থেকে পর্যটক সিট দিতে চাইলে টাকা দেওয়ার আগে জিজ্ঞেস করুন এটা কীভাবে বৈধ, আর টিকিটে সরকারি QR কোড আছে কি না দেখে নিন।

ধাপ ২: নুনিয়াছড়া জেটি থেকে জাহাজ
- কক্সবাজার থেকে ছাড়ে: সকাল ৭টার দিকে
- যাত্রার সময়: প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা
- দ্বীপ থেকে ফেরে: বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে
গত মৌসুমে প্রতিটি টিকিটের সঙ্গে ছিল QR কোডসহ ট্রাভেল পাস, আর দিনে সর্বোচ্চ ২,০০০ জন যেতে পারতেন, তাই জনপ্রিয় দিনের টিকিট আগেই শেষ হয়ে যেত। যাওয়া-আসার ভাড়া জনপ্রতি ৳৩,৫০০ থেকে শুরু ছিল। সব জাহাজ, সিট আর ভাড়ার তালিকা আছে আমাদের সেন্টমার্টিন জাহাজের টিকিট লেখায়।
ধাপ ৩: দ্বীপের জেটি থেকে ছেঁড়াদ্বীপের দিকে
জাহাজ ভেড়ে দ্বীপের উত্তরের জেটিতে, যেটা দ্বীপের সবচেয়ে ভিড়ের অংশ। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ বিন্দু ছেঁড়াদ্বীপ আর দ্বীপের নিরিবিলি দক্ষিণ অংশ স্থানীয় ভ্যান, রিকশা বা বাইকে অল্প পথ। আমাদের এখানে থাকলে বাইক বা অটো ঠিক করে দিতে পারি (খরচ আলাদা)।
দক্ষিণ প্রান্ত থেকে ভাটার সময় বালু আর পাথরের ওপর দিয়ে হেঁটে ছেঁড়াদ্বীপে যাওয়া যায়; জোয়ারে সাগর পথ কেটে দেয়। বের হওয়ার আগে জোয়ার-ভাটার সময় দেখে নিন।

একটি নমুনা পরিকল্পনা
- আগের সন্ধ্যা: কক্সবাজারে পৌঁছান।
- দিন ১, সকাল ৭টা: নুনিয়াছড়া জেটি থেকে জাহাজ।
- দিন ১, দুপুরের দিকে: দ্বীপের জেটিতে নেমে দক্ষিণে যান। এল মারেনায় চেক-ইন দুপুর ১টা থেকে।
- দিন ১, সন্ধ্যা: পাথুরে সৈকতে সূর্যাস্ত, গ্রিলে সি-ফুড, রাতের তারাভরা আকাশ।
- দিন ২, ভোরে: ভাটার সময় হেঁটে ছেঁড়াদ্বীপ। চেক-আউট দুপুর ১২টার মধ্যে।
- দিন ২, বিকেল ৩টার দিকে: কক্সবাজারের পথে ফেরার জাহাজ।
ফেরার জাহাজ বিকেল ৩টার দিকে ছাড়ে, তাই দিনে গিয়ে দিনে ফিরলে দ্বীপে থাকা যায় মাত্র কয়েক ঘণ্টা। আপনার যাওয়ার সময় রাতে থাকার অনুমতি থাকলে অন্তত এক রাত থাকুন: সূর্যাস্ত, তারা আর ভোরে ছেঁড়াদ্বীপে হাঁটা — সবই দিনের ট্রিপের সময়ের বাইরে।
যাত্রায় যা সঙ্গে রাখবেন
- QR কোডসহ জাহাজের টিকিট আর ছবিসহ পরিচয়পত্র
- ভ্যান, নৌকা আর ছোট দোকানের জন্য নগদ টাকা
- আবার ভরা যায় এমন পানির বোতল
- সানস্ক্রিন, সানগ্লাস আর টুপি
- ঠান্ডা সন্ধ্যার জন্য হালকা জ্যাকেট বা শাল
- টর্চ আর পাওয়ার ব্যাংক
পুরো তালিকা, মৌসুম আর দ্বীপের নিয়মকানুন আছে আমাদের সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ গাইডে।
থাকুন ছেঁড়াদ্বীপের কাছে
এল মারেনা ইকো রিসোর্ট ছেঁড়াদ্বীপ সৈকতের কাছে, দ্বীপের নিরিবিলি দক্ষিণ প্রান্তে, ভিড়ের জেটি থেকে দূরে। হোয়াটসঅ্যাপে তারিখ জানান, আমরা কটেজ বা তাঁবু নিশ্চিত করব, আর একই চ্যাটে জাহাজের সিটও বুক করে দিতে পারি। আমাদের সম্পর্কে আর আসার পথ নিয়ে আরও আছে আমাদের কথা পাতায়।




