সেন্টমার্টিনে হানিমুন বা দুজনের ছুটি কীভাবে সাজাবেন: ঠিক তারিখ আর দ্বীপের ঠিক প্রান্ত বাছুন, কটেজ বেছে নিন, আর যোগ করুন সৈকতে ক্যান্ডেললাইট ডিনার।
বাংলাদেশে খুব কম জায়গা আছে যেখানে দুজনে একই দিনে পাথর আর সাগরের ওপর সূর্যাস্ত দেখতে পারেন, সকালের ধরা মাছ খেতে পারেন, আর তারায় ভরা আকাশের নিচে হাঁটতে পারেন — সেন্টমার্টিন তার একটি। আবার জেটির কাছে ভিড় আর শব্দও থাকতে পারে। ছেঁড়াদ্বীপের কাছে এল মারেনা ইকো রিসোর্টের পক্ষ থেকে, নিরিবিলি হানিমুন বা দুজনের ভ্রমণ কীভাবে সাজাবেন, তা এখানে।
রাতে থাকা যাবে কি না, তা নির্ভর করে মৌসুমের নিয়মের ওপর। গত মৌসুমে (২০২৫–২৬) ডিসেম্বর আর জানুয়ারিতে রাতে থাকা যেত, নভেম্বরে নয়। লেখার সময় (অক্টোবর ২০২৬) ২০২৬–২৭-এর নিয়ম প্রকাশ হয়নি।
কখন যাবেন
এখানে হানিমুন জমে তখনই, যখন রাতে থাকা যায় — কারণ সূর্যাস্ত, তারা আর ভোর, সবই দিনের সফরের সময়ের বাইরে। মৌসুমের মধ্যে রবি থেকে বৃহস্পতিবার দ্বীপে ভিড় কম, আর আমাদের এখানে ভাড়াও নিয়মিত ভাড়ার অর্ধেক। শুক্রবার, শনিবার আর ছুটির দিনে সবচেয়ে বেশি ভিড়। মৌসুমের হিসাব আছে আমাদের সেন্টমার্টিন যাওয়ার সেরা সময় লেখায়।
থাকুন নিরিবিলি দক্ষিণে
জাহাজ ভেড়ে দ্বীপের উত্তরের জেটিতে, যেটা সবচেয়ে ভিড়ের অংশ। ছেঁড়াদ্বীপের আশপাশে দক্ষিণ অনেক নিরিবিলি — পাথুরে সৈকত, কম মানুষ, আর রাতে অন্ধকার আকাশ। জেটি থেকে ভ্যান, রিকশা বা বাইকে অল্প পথ, আর এখান থেকে ভোরে ভাটার সময় হেঁটে ছেঁড়াদ্বীপে যাওয়া যায়, দিনের পর্যটকেরা আসার আগেই।
দুজনের জন্য কোন কটেজ?
- ডুপ্লেক্স কটেজ (৳৪,০০০–৳৬,০০০): হানিমুনের জন্য আমাদের পছন্দ। খুঁটির ওপর দোতলা কাঠের কটেজ — ডাবল বেড, অ্যাটাচড বাথরুম, হ্যামকসহ বারান্দা আর ওপরে ওয়াচটাওয়ার। কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্টসহ।
- সিঙ্গেল কটেজ (৳২,০০০–৳৩,০০০): দুজনের জন্য ছিমছাম, নিরিবিলি ঘর — ডাবল বেড, কমন বাথরুম। বাজেটের পছন্দ।
- তাঁবু (৳১,০০০–৳১,৫০০): আরামের চেয়ে অ্যাডভেঞ্চার বেশি চাইলে সৈকতের কাছে একটা রাত।
ভাড়া পুরো কটেজ বা তাঁবুর, জনপ্রতি নয়। নিজস্ব বাথরুম চাইলে ডুপ্লেক্স নিন: সিঙ্গেল কটেজ আর তাঁবুতে কমন বাথরুম।

সৈকতে ক্যান্ডেললাইট ডিনার
দম্পতিরা সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করেন এটার কথাই: মোমবাতির আলোয় বালুর ওপর রাতের খাবার, হানিমুন, জন্মদিন আর বিবাহবার্ষিকীর জন্য। এর খরচ আলাদা, তাই কটেজ বুক করার সময়ই হোয়াটসঅ্যাপে দাম জেনে একটা সন্ধ্যা ঠিক করে নিন। রিসোর্টেই থাকতে চাইলে সন্ধ্যায় আমাদের খোলা আকাশের রেস্তোরাঁয় সামুদ্রিক খাবার আর বারবিকিউ পাবেন।
দুজনের দুই দিন
- প্রথম দিন, সকাল ৭টা: কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া জেটি থেকে জাহাজ।
- প্রথম দিন, দুপুরের পর: দক্ষিণে কটেজে; চেক-ইন দুপুর ১টা থেকে। হ্যামকে বিশ্রাম।
- প্রথম দিন, সন্ধ্যা: পাথরের ওপর সূর্যাস্ত, তারপর ক্যান্ডেললাইট ডিনার বা গ্রিলের সামুদ্রিক খাবার।
- প্রথম দিন, রাত: ওয়াচটাওয়ার থেকে তারা দেখা। রাত ১১টা থেকে নীরবতার সময়।
- দ্বিতীয় দিন, ভোর: সূর্যোদয়, ভাটায় হেঁটে ছেঁড়াদ্বীপ, তারপর নাশতা।
- দ্বিতীয় দিন, দুপুর ১২টার মধ্যে: চেক-আউট, তারপর বিকেল ৩টার দিকে ফেরার জাহাজ।
ছেঁড়াদ্বীপে হাঁটার আগে জোয়ার-ভাটার সময় দেখে নিন; কীভাবে, তা আছে আমাদের ছেঁড়াদ্বীপ গাইডে।

হানিমুন প্যাকেজ আছে কি?
আমরা নির্দিষ্ট কোনো প্যাকেজ বিক্রি করি না। বরং আপনি কী চান জানান, আমরা একটা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটেই সাজিয়ে দেব: আপনার কটেজ, জাহাজের সিট আর ক্যান্ডেললাইট ডিনার। যা বাছবেন শুধু তারই দাম দেবেন, আর টাকা দেওয়ার আগে প্রতিটি দাম নিশ্চিত করে নিই।
ছোট কিছু জিনিস, যা ভ্রমণটা আরও সুন্দর করে
- জাহাজ আর কটেজ একসঙ্গে, আগে বুক করুন — বিশেষ করে শুক্র বা শনিবারের জন্য।
- হালকা শাল বা জ্যাকেট নিন: শীতের সন্ধ্যায় সাগরপাড়ে ঠান্ডা লাগে।
- রাতের খাবারের পর ফেরার জন্য একটা টর্চ রাখুন।
- রাতে সৈকত অন্ধকার আর শান্ত রাখুন: দ্বীপের নিয়মে সেখানে আলো আর জোরে গান নিষিদ্ধ।
- প্রবাল, ঝিনুক আর পাথর যেখানে আছে সেখানেই রেখে আসুন।
বুক করুন আপনার থাকা
হোয়াটসঅ্যাপে তারিখ জানান, আর বলুন এটা আপনাদের হানিমুন বা বিবাহবার্ষিকী। আমরা কটেজ নিশ্চিত করব, আর চাইলে জাহাজ আর ক্যান্ডেললাইট ডিনারও বুক করে দেব। বুকিং কীভাবে হয়, তা আছে সেন্টমার্টিনে হোটেল বুক করবেন যেভাবে লেখায়।




