ছবি: Niaz morshed Shovon (পাবলিক ডোমেইন), Wikimedia Commons থেকে
প্রথমবার যারা আসেন, তাঁদের আমরা যে বারোটা কথা বলি — জাহাজ আগে বুক করা থেকে জোয়ার-ভাটা দেখে নেওয়া পর্যন্ত — যাতে প্রথম সেন্টমার্টিন ভ্রমণটা ঝামেলা ছাড়া হয়।
প্রতি মৌসুমে প্রথমবার সেন্টমার্টিনে আসা মানুষদের কাছ থেকে একই প্রশ্নগুলো পাই। উত্তরগুলো এক জায়গায় দিলাম, ছেঁড়াদ্বীপের কাছের এল মারেনা ইকো রিসোর্টের টিম থেকে।
১. দ্বীপ খোলা শুধু মৌসুমে
প্রতি বছর সরকার পর্যটন মৌসুম ঠিক করে দেয়। ২০২৫–২৬-এ দ্বীপ খোলা ছিল ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি; নভেম্বরে শুধু ডে-ট্রিপ, ডিসেম্বর আর জানুয়ারিতে রাতে থাকা যেত। লেখার সময় (অক্টোবর ২০২৬) ২০২৬–২৭-এর নিয়ম আসেনি। মৌসুমের কথা আছে কখন যাবেন লেখায়।
২. জাহাজ আগে বুক করুন
গত মৌসুমে দিনে সর্বোচ্চ ২,০০০ জন যেতে পারতেন, তাই ছুটির দিন আর উইকএন্ড আগে শেষ হয়ে যেত। আসা-যাওয়ার ভাড়া শুরু ছিল জনপ্রতি ৳৩,৫০০ থেকে। দেখুন সেন্টমার্টিন জাহাজের টিকিট।
৩. টিকিটই আপনার পাস
গত মৌসুমে প্রতিটি টিকিটের সঙ্গে ট্রাভেল পাস আর QR কোড ছিল, QR কোড ছাড়া টিকিট নকল বলে ধরা হতো। শুধু অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে কিনুন, আর পুরো ভ্রমণে টিকিট আর ছবিসহ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন।
৪. জাহাজ ছাড়ে কক্সবাজার থেকে
গত মৌসুমে পর্যটক জাহাজ ছেড়েছে শুধু কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া জেটি থেকে, টেকনাফ বা চট্টগ্রাম থেকে নয়। ছাড়ে সকাল ৭টার দিকে, তাই আগের রাত কক্সবাজারে থাকুন। পুরো পথ আছে সেন্টমার্টিন যাওয়ার উপায় লেখায়।

৫. পারলে অন্তত এক রাত থাকুন
জাহাজ পৌঁছায় দুপুরের দিকে আর ফেরে বিকেল ৩টা থেকে ৩টা ৩০-এ। ডে-ট্রিপে জেটির কাছে কয়েক ঘণ্টা; এক রাত থাকলে সূর্যাস্ত, তারা আর ভোরে ছেঁড়াদ্বীপে হাঁটা।
৬. উত্তর আর দক্ষিণ আলাদা
জেটির দিকটা দ্বীপের সবচেয়ে ভিড়ের অংশ। ছেঁড়াদ্বীপের আশপাশের দক্ষিণ শান্ত, পাথুরে তীর আর অন্ধকার আকাশ। লোকাল ভ্যান, রিকশা বা বাইকে অল্প পথ। দুই দিকের তুলনা আছে কোথায় থাকবেন লেখায়।
৭. দাম রুমপ্রতি না জনপ্রতি, জিজ্ঞেস করুন
দ্বীপে দুইভাবেই দাম বলা হয়। আমাদের দাম পুরো কটেজ বা তাঁবুর: ৪ জনের ডুপ্লেক্স ৳৪,০০০–৳৬,০০০, ২ জনের সিঙ্গেল কটেজ ৳২,০০০–৳৩,০০০, ২ জনের তাঁবু ৳১,০০০–৳১,৫০০, রবি থেকে বৃহস্পতিবার সবচেয়ে কম। আরও আছে সেন্টমার্টিন রিসোর্টের দাম লেখায়।
৮. নগদ টাকা রাখুন
ভ্যান, রিকশা, নৌকা, চায়ের দোকান আর ছোট দোকানে নগদ টাকাই চলে, তাই পুরো ভ্রমণের মতো টাকা সঙ্গে রাখুন।
৯. দ্বীপের নিয়ম জেনে যান
- রাতে সৈকতে আলো, জোরে গান বা বারবিকিউ পার্টি নয়।
- সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইক বা অন্য কোনো মোটরযান নয়।
- কেয়াবনে ঢুকবেন না, কেয়া ফল তুলবেন না, কিনবেন বা বেচবেন না।
- প্রবাল, কচ্ছপ, পাখি, কাঁকড়া, তারামাছ বা শৈবালের ক্ষতি করবেন না, তুলেও নেবেন না।
- পলিথিন ব্যাগ নয়: রিফিল করা যায় এমন বোতল আনুন।
এগুলো ছিল ২০২৫–২৬-এর নিয়ম। কেন জরুরি, পড়ুন প্রবাল দ্বীপ সংরক্ষণ।

১০. ছেঁড়াদ্বীপের প্ল্যান ঠিক করে জোয়ার-ভাটা
ছেঁড়াদ্বীপে হেঁটে যাওয়া যায় শুধু ভাটার সময়; জোয়ারে সমুদ্র পথ কেটে দেয়। আপনার দিনের জোয়ার-ভাটার সময় দেখে নিন, ভোরে যান আর পানি বাড়ার আগে ফিরুন, নয়তো মূল জেটি থেকে নৌকা নিন। বিস্তারিত আমাদের ছেঁড়াদ্বীপ গাইডে।

১১. রোদ, পাথর আর ঠান্ডা সন্ধ্যার জন্য গুছিয়ে নিন
- QR কোডসহ জাহাজের টিকিট আর ছবিসহ পরিচয়পত্র
- সানস্ক্রিন, সানগ্লাস আর টুপি
- পাথুরে তীরের জন্য স্যান্ডেল বা পানিতে চলার জুতা
- সন্ধ্যার জন্য হালকা জ্যাকেট বা শাল
- টর্চ আর পাওয়ার ব্যাংক
- রিফিল করা যায় এমন পানির বোতল
- ময়লা ফেরত নেওয়ার একটা ব্যাগ
১২. চেক-ইন আর জাহাজের সময় মিলিয়ে প্ল্যান করুন
এল মারেনায় চেক-ইন দুপুর ১টা থেকে আর চেক-আউট দুপুর ১২টার মধ্যে, দুপুরে আসা আর বিকেলে ফেরার জাহাজের সঙ্গে মিলে যায়। আমাদের নীরবতার সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা। হোয়াটসঅ্যাপে তারিখ জানান, কটেজ বা তাঁবু নিশ্চিত করে দেব, আর একই চ্যাটে জাহাজের সিটও বুক করে দিতে পারি।



