মূল লেখায় যান
এল মারেনা
সেন্টমার্টিনে নারকেল গাছ আর বেগুনি সৈকত-ফুল, পেছনে সমুদ্র আর দূরের পাহাড়

সেন্টমার্টিন দ্বীপ অনুচ্ছেদ: শিক্ষার্থীদের জন্য ছোট আর বড় দুটো

ছবি: Niaz morshed Shovon (পাবলিক ডোমেইন), Wikimedia Commons থেকে

স্কুলের জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে দুটো অনুচ্ছেদ, একটা ছোট আর একটা বড়, শুধু মিলিয়ে দেখা যায় এমন তথ্য দিয়ে।

স্কুলের জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে অনুচ্ছেদ লাগবে? এখানে দুটো দিলাম, একটা ছোট আর একটা বড়, লিখেছে দ্বীপের এল মারেনা ইকো রিসোর্টের টিম। প্রতিটা তথ্য বাংলাপিডিয়া বা নিচে লেখা সূত্র থেকে নেওয়া, চাইলে মিলিয়ে দেখতে পারো। পড়ে নিয়ে নিজের ভাষায় লিখলে সবচেয়ে ভালো হয়, শিক্ষকেরাও সেটাই পছন্দ করেন।

ছোট অনুচ্ছেদ (১০০ শব্দের মতো, পঞ্চম শ্রেণি)

সেন্টমার্টিন দ্বীপ। সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হিসেবে পরিচিত। এটি বঙ্গোপসাগরে, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। দ্বীপে অনেক নারিকেল গাছ আছে বলে স্থানীয়রা একে নারিকেল জিঞ্জিরা বলে। দ্বীপটি প্রায় ৭ কিলোমিটার লম্বা। এখানকার বেশির ভাগ মানুষ মাছ ধরে জীবিকা চালায়। শীতকালে অনেক পর্যটক জাহাজে করে এখানে সমুদ্র, প্রবাল পাথর আর সূর্যাস্ত দেখতে যায়। শীতে সামুদ্রিক কচ্ছপ এর সৈকতে ডিম পাড়তে আসে। আমাদের সবার উচিত দ্বীপটিকে পরিষ্কার রাখা আর এর প্রবাল রক্ষা করা।

বড় অনুচ্ছেদ (২০০ শব্দের মতো, অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি)

সেন্টমার্টিন দ্বীপ: বাংলাদেশের প্রবাল দ্বীপ। সেন্টমার্টিন দ্বীপ বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত একটি ছোট দ্বীপ এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষিণের ভূখণ্ড। এটি কক্সবাজার-টেকনাফ উপদ্বীপের মাথা থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মিয়ানমারের উপকূল থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। প্রশাসনিকভাবে দ্বীপটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত। দ্বীপটি প্রায় ৭.৩ কিলোমিটার লম্বা। এর উত্তর অংশ সবচেয়ে চওড়া, মাঝের অংশ খুব সরু, আর দক্ষিণ মাথার কাছে রয়েছে ছেঁড়াদ্বীপ নামের ছোট ছোট দ্বীপ। স্থানীয়রা একে নারিকেল জিঞ্জিরা বলে। এটি দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হিসেবে পরিচিত: এর অগভীর পানিতে ছোট জীবন্ত প্রবাল জন্মায়, আর এখানে পাওয়া সবচেয়ে পুরোনো প্রবালের জীবাশ্ম প্রায় ৩৩ হাজার বছরের পুরোনো। দ্বীপে প্রায় সাড়ে আট হাজার মানুষ বাস করে (২০২২ সালের জনশুমারি), যাদের বেশির ভাগ পরিবার মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল। শীতকালে এর সৈকতে সামুদ্রিক কচ্ছপ ডিম পাড়ে, আর প্রতি শীতে পর্যটকেরা কক্সবাজার থেকে জাহাজে করে এখানে বেড়াতে যান। অতিরিক্ত পর্যটক আর প্লাস্টিক বর্জ্য প্রবাল ও প্রাণীদের ক্ষতি করে বলে সরকার দ্বীপটিকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করেছে এবং প্রতিদিন কতজন পর্যটক যেতে পারবেন তা সীমিত করেছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপ আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ, একে রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

দ্বীপের গ্রাম, গাছপালা আর উপকূলের আকাশ থেকে তোলা দৃশ্য
দ্বীপের গ্রাম, গাছপালা আর উপকূলের আকাশ থেকে তোলা দৃশ্য

এক নজরে মূল তথ্য

  • কোথায়: বঙ্গোপসাগরে, কক্সবাজার-টেকনাফ উপদ্বীপ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে; কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলা (বাংলাপিডিয়া)।
  • অপর নাম: নারিকেল জিঞ্জিরা, মানে নারিকেলের দ্বীপ (বাংলাপিডিয়া)।
  • দৈর্ঘ্য: প্রায় ৭.৩ কিলোমিটার (বাংলাপিডিয়া)।
  • ধরন: সাধারণত বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ বলা হয় (উইকিপিডিয়া); ২০২২ সালের এক গবেষণা বলছে, এটি আসলে প্রবালসমৃদ্ধ পাথুরে দ্বীপ (প্রথম আলো, ২০২৫)।
  • মানুষ: ২০২২ সালের জনশুমারিতে সেন্টমার্টিন ইউনিয়নে ৮,৪৯২ জন।
  • সবচেয়ে পুরোনো প্রবালের জীবাশ্ম: প্রায় ৩৩ হাজার বছর (বাংলাপিডিয়া)।
  • সংরক্ষিত: প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা; প্রতি বছর সরকার পর্যটন মৌসুম আর দৈনিক পর্যটকের সীমা ঠিক করে।
  • প্রাণী: সামুদ্রিক কচ্ছপ, বেশির ভাগই অলিভ রিডলি, মোটামুটি নভেম্বর থেকে মার্চ সৈকতে ডিম পাড়ে (ইউএনডিপি)।

আরও পড়তে দেখো সেন্টমার্টিন দ্বীপ কোথায়, সেন্টমার্টিনের তথ্য আর সেন্টমার্টিনের সামুদ্রিক কচ্ছপ।

সব লেখা

প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ও উত্তর

সেন্টমার্টিন দ্বীপের অপর নাম কী?
নারিকেল জিঞ্জিরা, মানে নারিকেলের দ্বীপ।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ কোথায়?
বঙ্গোপসাগরে, টেকনাফ উপদ্বীপ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার জেলায়।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ কেন বিখ্যাত?
এটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হিসেবে পরিচিত; প্রবাল, নারিকেল গাছ, সামুদ্রিক কচ্ছপ আর নিরিবিলি সৈকতের জন্য বিখ্যাত।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ গাইড

ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন?

হোয়াটসঅ্যাপে তারিখ আর কতজন যাচ্ছেন জানান। আমরা কটেজ নিশ্চিত করব, চাইলে জাহাজের টিকিটও বুক করে দেব।

হোয়াটসঅ্যাপে বুক করুন