পূর্ণিমার রাতে দ্বীপের দক্ষিণের সমুদ্র আর পাথর রুপালি হয়ে যায়। এই মৌসুমের পূর্ণিমার তারিখ, চাঁদ জোয়ারে কী করে, আর রাতটা কীভাবে সাজাবেন।
সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ মাথায় আলো প্রায় নেই, তাই পূর্ণিমার চাঁদে সমুদ্র, বালু আর পাথর এত আলো হয় যে নিজের ছায়া দেখা যায়। অনেকে পুরো ট্রিপটাই এর হিসাবে সাজান। পূর্ণিমার রাত বাছার আগে যা জানা দরকার, ছেঁড়াদ্বীপের কাছের এল মারেনা ইকো রিসোর্টের টিম থেকে বলছি।
রাতে দ্বীপ দেখা যায় শুধু যখন রাতে থাকার অনুমতি থাকে। গত মৌসুমে (২০২৫–২৬) রাতে থাকা যেত ডিসেম্বর আর জানুয়ারিতে, নভেম্বরে না। লেখার সময় (অক্টোবর ২০২৬) ২০২৬–২৭-এর নিয়ম প্রকাশ হয়নি।
এই মৌসুমের পূর্ণিমা
- মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা ৫৫। নভেম্বরে যদি আবার শুধু দিনে গিয়ে দিনে ফেরা হয়, তাহলে এটা দ্বীপ থেকে দেখা যাবে না।
- বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৬, সকাল ৭টা ২৯। চাঁদ পুরো হয় সেদিন সকালে, তাই ২৩ আর ২৪ ডিসেম্বরের রাত দুটোই ধরে পরিকল্পনা করুন।
- শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৭, সন্ধ্যা ৬টা ১৮, সূর্য ডোবার একটু পরে।
সময়গুলো বাংলাদেশ সময়ে, calendar-12.com-এর চাঁদের দশার ক্যালেন্ডার থেকে। আগে-পরে এক-দুই রাতও চাঁদ প্রায় পুরোই দেখায়, তাই ঠিক তারিখেই যেতে হবে এমন না।
জ্যোৎস্না, নাকি তারা?
দুটো একসাথে সেরা পাবেন না। পূর্ণিমার উজ্জ্বল আলোয় ম্লান তারাগুলো ঢাকা পড়ে, আকাশ ফাঁকা ফাঁকা লাগে। চাঁদের আলোয় সমুদ্র দেখতে চাইলে পূর্ণিমার আশপাশে আসুন। ছায়াপথ আর আকাশভরা তারা চাইলে আসুন অমাবস্যার আশপাশে, মোটামুটি দুই সপ্তাহ আগে বা পরে। যেটাই হোক, দ্বীপের দক্ষিণই সেরা জায়গা: সেখানে আলো খুব কম।
পূর্ণিমায় জোয়ার-ভাটা বড় হয়
পূর্ণিমা আর অমাবস্যার আশপাশে জোয়ার-ভাটা স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হয়: জোয়ারে পানি বেশি ওঠে, ভাটায় বেশি নামে (একে বলে ভরা কটাল বা স্প্রিং টাইড, মার্কিন সংস্থা NOAA যেমন ব্যাখ্যা করে)। ভাটায় পাথুরে তীরের বেশি অংশ বেরিয়ে আসে, ছেঁড়াদ্বীপে হাঁটার জন্য ভালো। কিন্তু পানিও ফেরে বেশি উঁচু হয়ে, তাই জোয়ার-ভাটার সময় দেখে নিন, ভোরে যান, আর হাতে অনেক সময় রেখে ফেরা শুরু করুন। হাঁটার নিয়ম আমাদের ছেঁড়াদ্বীপ গাইডে।
সৈকত অন্ধকার আর চুপচাপ রাখুন
এখানের জ্যোৎস্না রাত সুন্দর কারণ চারপাশ অন্ধকার, আর দ্বীপের নিয়মও সেটা রক্ষা করে। গত মৌসুমে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, জোরে গান আর বারবিকিউ পার্টি নিষেধ ছিল। পথের জন্য টর্চ আনুন, কিন্তু সৈকতে সেটা বন্ধ রাখুন, আর অন্ধকারে পাথরের ওপর দূরে যাবেন না। পুরো তালিকা আমাদের প্রবাল সংরক্ষণ লেখায়।
এল মারেনায় পূর্ণিমার রাত
- ডুপ্লেক্স কটেজের ওপরে ওয়াচটাওয়ার: সমুদ্রের ওপর চাঁদ দেখার সেরা জায়গা। দেখুন ডুপ্লেক্স কটেজ।
- তাঁবু সৈকতের কাছে, সমুদ্রের শব্দের আরও কাছে একটা রাতের জন্য।
- নীরবতার সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা, তাই সবার রাতটাই শান্ত থাকে।
- রাতের খাবার: আমাদের বারবিকিউর জায়গায় সেদিনের ধরা মাছ, শুধু খাবারের দাম দিয়ে।

পূর্ণিমার একটা সহজ পরিকল্পনা
- প্রথম দিন, দুপুরের দিকে: জাহাজে পৌঁছে দক্ষিণে চলে আসুন। এল মারেনায় চেক-ইন দুপুর ১টা থেকে।
- বিকেলের শেষে: পাথরের ওপর সূর্যাস্ত। পূর্ণিমার আশপাশে সূর্য ডোবার প্রায় একই সময়ে পূর্ব দিকে চাঁদ ওঠে।
- সন্ধ্যায়: রাতের খাবার, তারপর ওয়াচটাওয়ার বা সৈকতের কিনারা থেকে পানির ওপর চাঁদ।
- দ্বিতীয় দিন, ভোরে: জোয়ার-ভাটা মিললে ভাটায় হেঁটে ছেঁড়াদ্বীপ, তারপর দুপুর ১২টার মধ্যে চেক-আউট আর বিকেল ৩টা–৩টা ৩০-এর জাহাজে ফেরা।
আগে বুক করুন
পূর্ণিমার রাতের চাহিদা বেশি, আর সবার আগে শেষ হয় জাহাজের সিট। গত মৌসুমে প্রতিটা টিকিটে QR কোডসহ ট্রাভেল পাস লাগত, আর দিনে সর্বোচ্চ ২,০০০ জন যেতে পারতেন। ডিসেম্বরের পূর্ণিমা বুধ আর বৃহস্পতিবার রাতে, তখন আমাদের রবি–বৃহস্পতির ভাড়া চলে; জানুয়ারিরটা শুক্রবার। হোয়াটসঅ্যাপে তারিখ পাঠান, আমরা কটেজ বা তাঁবু নিশ্চিত করব, আর একই চ্যাটে জাহাজের সিটও বুক করে দিতে পারি। দিনগুলো সাজানোর আরও উপায় আছে আমাদের সেন্টমার্টিন ট্যুর প্ল্যানে।




