জাহাজ, জোয়ার-ভাটা আর রাতের সময়টা ঠিক করে নিলে সেন্টমার্টিন একা ঘোরার জন্য ভালো দ্বীপ। কীভাবে, বলছি।
একা সেন্টমার্টিন যাওয়া খুবই সম্ভব। দ্বীপটা ছোট, গাড়ি নেই, বেশির ভাগটা হেঁটেই ঘোরা যায়। যা ঠিক করে নিতে হবে: জাহাজ, কোথায় ঘুমাবেন, জোয়ার-ভাটা, আর সন্ধ্যার পর কী করবেন। পরামর্শ দিচ্ছি ছেঁড়াদ্বীপের কাছের এল মারেনা ইকো রিসোর্টের পক্ষ থেকে।
সরকার যে মৌসুম ঠিক করে, শুধু তখনই দ্বীপ খোলা থাকে। গত মৌসুমে (২০২৫–২৬) খোলা ছিল ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি, নভেম্বরে শুধু দিনে গিয়ে ফেরা যেত; এ লেখার সময় (অক্টোবর ২০২৬) ২০২৬–২৭ মৌসুমের নিয়ম আসেনি।
পরিকল্পনা
- আগে জাহাজের টিকিট: পর্যটকবাহী জাহাজ ছাড়ে কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া জেটি থেকে। পরিচিত কোম্পানি থেকে কিনুন; দেখুন জাহাজের টিকিট।
- জাহাজে ওঠার আগেই থাকার জায়গা বুক করুন, যাতে জেটিতে ব্যাগ নিয়ে রুম খুঁজতে না হয়।
- বাসায় কাউকে জানিয়ে রাখুন কোন জাহাজ, কোথায় থাকছেন, কবে ফিরছেন।
একা কোথায় থাকবেন
সেন্টমার্টিনে ভাড়া সাধারণত পুরো রুম বা কটেজের, জনপ্রতি নয়। একজনের জন্য এল মারেনায় কম খরচের বিকল্প সিঙ্গেল কটেজ (ডাবল বেড, শেয়ার করা বাথরুম) বা সৈকতের কাছে তাঁবু। নিজের বাথরুম চাইলে ডুপ্লেক্স কটেজে আছে, তবে দাম বেশি।

নিরাপদ থাকা
- ছেঁড়াদ্বীপে হাঁটার আগে জোয়ার-ভাটা দেখে নিন, আর জোয়ারের অনেক আগেই ফেরা শুরু করুন।
- একা সাঁতার কাটবেন না, পাথুরে পাড়ে তো নয়ই।
- সন্ধ্যার পর চেনা পথে চলুন, সঙ্গে টর্চ রাখুন। দ্বীপের দক্ষিণ খুব অন্ধকার।
- ফোনে চার্জ রাখুন: পাওয়ার ব্যাংক নিন।
- আরও আছে আমাদের নিরাপত্তা টিপস লেখায়।
খরচ কমানো
- রবি থেকে বৃহস্পতিবার যান: শুক্র-শনির চেয়ে আমাদের সপ্তাহের দিনের ভাড়া কম।
- কাছের জায়গায় ভ্যান না নিয়ে হাঁটুন।
- সাধারণ খাবার খান: ভাত, ডাল আর মাছের তরকারি সি-ফুড প্ল্যাটারের চেয়ে অনেক সস্তা।
একা এল মারেনায়
আমরা ছেঁড়াদ্বীপের কাছে নিরিবিলি দক্ষিণে, জেটি থেকে ভ্যান, রিকশা বা বাইকে প্রায় ২৫ মিনিট। নীরবতার সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা, আর দ্বীপে কোনো দরকারে যেকোনো সময় হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিতে পারেন।



