ছবি: Muntasir du (পাবলিক ডোমেইন), Wikimedia Commons থেকে
পাস ছাড়া সেন্টমার্টিন যাওয়া যায় না, তবে আলাদা করে আবেদনও করতে হয় না: পাস আসে জাহাজের টিকিটের সঙ্গেই। এবারের মৌসুমে কীভাবে কাজ করে, বলছি।
সংক্ষেপে: হ্যাঁ, ২০২৬–২৭-এ সেন্টমার্টিন যেতে ট্রাভেল পাস লাগবে। তবে এর জন্য আলাদা আবেদন করতে হয় না। পাস থাকে আপনার জাহাজের টিকিটেই, যা কিনতে হয় অনলাইনে, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত পোর্টালে, আর তাতে থাকে একটা QR কোড। ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত যা জানা গেছে, বলছি ছেঁড়াদ্বীপের কাছের এল মারেনা ইকো রিসোর্টের পক্ষ থেকে।
সেন্টমার্টিনের নিয়ম প্রতি মৌসুমে বদলায়। টিকিট কেনার আগে সর্বশেষ খবর দেখে নিন, অথবা হোয়াটসঅ্যাপে আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
ট্রাভেল পাস জিনিসটা কী
সেন্টমার্টিন প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা, তাই দিনে কতজন যেতে পারবেন, সরকার তা বেঁধে দেয়। ট্রাভেল পাস দিয়েই সেই হিসাব রাখা হয়। পাস আপনার জাহাজের টিকিটেরই অংশ: প্রতিটি টিকিটে QR কোডসহ ট্রাভেল পাস থাকবে, আর QR কোড ছাড়া টিকিট অবৈধ বলে গণ্য হবে (পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ২৫ অক্টোবর ২০২৬-এর চিঠি; বিডিনিউজ২৪)।
গত মৌসুমেও একই নিয়ম ছিল। কর্ণফুলী ক্রুজ লাইনের এক টিকিটিং কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, অনুমোদিত জাহাজের টিকিটের সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে QR কোডসহ ট্রাভেল পাস তৈরি হয়ে যায়, আলাদা করে পাস নিতে হয় না (ডিসেম্বর ২০২৫)।
এর সঙ্গে ২০২৬–২৭-এর নিয়ম
- মৌসুম: ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ১৫ মার্চ ২০২৭ (পরিবেশ মন্ত্রণালয়, ২৫ অক্টোবর ২০২৬)।
- কোথা থেকে: শুধু অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ, শুধু কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া জেটি থেকে।
- কতজন: দিনে গড়ে ৩,৫০০ জনের বেশি নয়; গত মৌসুমে ছিল ২,০০০।
- ফি: প্রত্যেক পর্যটকের ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি।
- রাতে থাকা: পুরো মৌসুমেই, নভেম্বরেও (মন্ত্রণালয়ের ২৭ অক্টোবর ২০২৬-এর সংশোধিত নির্দেশনা; ইত্তেফাক, ঢাকা টাইমস)।

ধাপে ধাপে কীভাবে পাবেন
- তারিখ ঠিক করুন। উইকএন্ড, ছুটির দিন আর পূর্ণিমার রাতের টিকিট আগে শেষ হয়, তাই ওই দিনগুলো আগেভাগে বুক করুন।
- জাহাজের টিকিট অনলাইনে কিনুন জাহাজ কোম্পানি বা অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে, যারা ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত পোর্টালে টিকিট দেয়। দুই কোম্পানির নিজেদের ওয়েবসাইটে বুকিং হয় হোয়াটসঅ্যাপ, ফোন বা ফর্মে; টাকা দেওয়া যায় বিকাশ, নগদ, ব্যাংক ট্রান্সফার বা ক্যাশে।
- টিকিট মিলিয়ে নিন। তাতে ট্রাভেল পাস আর QR কোড থাকতে হবে। না থাকলে আর কোনো টাকা দেওয়ার আগে জিজ্ঞেস করুন।
- প্রিন্ট করে নিন। গত মৌসুমে যাত্রার আগে QR কোডসহ টিকিট প্রিন্ট করে নিতে বলা হয়েছিল। ফোনেও একটা ছবি রেখে দিন।
- ছবিসহ পরিচয়পত্র আর প্রিন্ট করা টিকিট নিয়ে নুনিয়াছড়া জেটিতে যান। জাহাজে ওঠার সময় QR কোড মিলিয়ে দেখা হয়।
জাল টিকিট এড়াবেন কীভাবে
- QR কোড নেই তো যাত্রাও নেই: QR কোড ছাড়া টিকিট অবৈধ।
- টেকনাফ থেকে সিটের অফার পেলে সাবধান: এবার পর্যটকবাহী জাহাজ ছাড়ে শুধু কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া থেকে।
- যেদিনের টিকিট শেষ, সেদিনের খুব সস্তা সিট দেখলে সাবধান। জাহাজ কোম্পানির নতুন তালিকায় (২৭ অক্টোবর ২০২৬, এখনো চূড়ান্ত নয়) যাওয়া-আসার ভাড়া জনপ্রতি ৳৪,২০০ থেকে শুরু।
- টাকা দিন শুধু জাহাজ কোম্পানি, অনুমোদিত বিক্রেতা বা যে রিসোর্টে থাকছেন তাদের, আর টাকার রসিদ রেখে দিন।
যাওয়ার দিন
- আগের রাতে কক্সবাজারে থাকুন। জাহাজ খুব সকালে ছাড়ে, আর কোম্পানিগুলো ছাড়ার এক ঘণ্টা আগে চেক-ইন করতে বলে।
- দ্বীপে থাকার সময়ও টিকিট সঙ্গে রাখুন, শুধু জাহাজে নয়।
- ঝড়ের সংকেত থাকলে জাহাজ ছাড়ে না। আবহাওয়া খারাপ হলে দেখুন ঝড়ের সংকেত আর আপনার ভ্রমণ।
থাকার বুকিংয়ের সঙ্গেই টিকিট
ছেঁড়াদ্বীপের কাছে এল মারেনায় থাকলে কটেজ বা তাঁবুর সঙ্গেই আমরা আপনার জাহাজের সিট বুক করে দিতে পারি, এক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে, আর টাকা দেওয়ার আগে চলতি ভাড়া নিশ্চিত করি। আমাদের বাতিলের নিয়ম ফ্লেক্সিবল: চেক-ইনের অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে বাতিল করলে পুরো টাকা ফেরত। সব জাহাজ আর সিট আছে সেন্টমার্টিনের জাহাজের টিকিট লেখায়, আর মৌসুমের তারিখ আছে সেন্টমার্টিন কি এখন খোলা আছে? লেখায়।




