শিশুদের নিয়ে সেন্টমার্টিন যাবেন যেভাবে: জাহাজ, চারজনের পরিবার কোথায় থাকবে, রিসোর্টে শিশুরা কী করতে পারে, সাগরপাড়ে নিরাপত্তা, আর ছোটদের জন্য প্যাকিং তালিকা।
শিশুরা সেন্টমার্টিন ভালোবাসে: লম্বা জাহাজযাত্রা, বালু, সৈকতে কাঁকড়ার পায়ের ছাপ আর গ্রিলে মাছ। একটু পরিকল্পনা করলে পরিবার নিয়ে ভ্রমণটা সহজ। বাবা-মায়েরা আমাদের যা সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করেন, ছেঁড়াদ্বীপের কাছে এল মারেনা ইকো রিসোর্টের পক্ষ থেকে তা এখানে।
রাতে থাকা যাবে কি না, তা নির্ভর করে মৌসুমের নিয়মের ওপর। গত মৌসুমে (২০২৫–২৬) ডিসেম্বর আর জানুয়ারিতে রাতে থাকা যেত, নভেম্বরে নয়। লেখার সময় (অক্টোবর ২০২৬) ২০২৬–২৭-এর নিয়ম প্রকাশ হয়নি।
শিশুদের নিয়ে জাহাজে
পর্যটকবাহী জাহাজ কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া জেটি থেকে সকাল ৭টার দিকে ছাড়ে, লাগে প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। ছোট শিশুদের জন্য এটা লম্বা সকাল, তাই:
- আগের সন্ধ্যায় কক্সবাজার পৌঁছান, যাতে কেউ ক্লান্ত হয়ে দিন শুরু না করে।
- লাউঞ্জের সিট বা কেবিন ভেবে দেখুন: গত মৌসুমে এমভি বার আউলিয়ায় ছিল চারজনের ফ্যামিলি কেবিন।
- পানি, হালকা খাবার, এক সেট বাড়তি কাপড় আর শিশুকে ব্যস্ত রাখার মতো কিছু নিন।
- সবার টিকিট আর ছবিসহ পরিচয়পত্র এক ব্যাগে রাখুন।
সিট আর কেবিনের তুলনা আছে আমাদের সেন্টমার্টিনের জাহাজ বাছবেন যেভাবে লেখায়।
পরিবার কোথায় থাকবে
ডুপ্লেক্স কটেজ চারজনের পরিবারের জন্যই বানানো: নিচে ডাবল বেড, ওপরে ঘুমানোর মাচা, শাওয়ার আর বেসিনসহ অ্যাটাচড বাথরুম, হ্যামকসহ বারান্দা আর ওয়াচটাওয়ার। পুরো কটেজ ৳৪,০০০–৳৬,০০০, কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্টসহ।
মাচায় উঠতে হয় কাঠের সিঁড়ি বেয়ে, তাই ছোটদের দিকে খেয়াল রাখুন। বেশি শিশু বা একজন বাড়তি অতিথি আনছেন? আগে হোয়াটসঅ্যাপে জিজ্ঞেস করুন, আমরা কী করা যায় দেখব। বড় পরিবার পাশাপাশি দুটি কটেজ নিতে পারে।

রিসোর্টে শিশুরা যা করতে পারে
- শিশুদের খেলার জায়গা: স্লাইড, দোলনা আর চড়ার খেলনা।
- ফুটবল মাঠ: পরিবারের সবাই মিলে খেলার খোলা মাঠ।
- বারবিকিউর সন্ধ্যা: আমাদের বারবিকিউর জায়গায় গ্রিলে মাছ আর লবস্টার পোড়ানো দেখা।
- ওয়াচটাওয়ারে ওঠা (বড় কারও সঙ্গে), ওপর থেকে দ্বীপ দেখতে।

শিশুদের নিয়ে দ্বীপে ঘোরা
- ভাটায় ছেঁড়াদ্বীপ: ভোরে বালু আর পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটা। রোদ চড়ার আগে যান, আর জোয়ার আসার অনেক আগেই ফিরে আসুন।
- সকালের সৈকত: ঝিনুক আর কাঁকড়া দেখার জন্য (দেখে যেখানে আছে সেখানেই রেখে দিন)।
- চলাফেরা: আমরা বাইক বা অটোর ব্যবস্থা করে দিতে পারি (খরচ আলাদা); দ্বীপে কোনো গাড়ি নেই।
সাগরপাড়ে নিরাপত্তা
- পানির কাছে ছোট শিশুকে হাতের নাগালে রাখুন।
- রাতে সাগরে নামবেন না, আর অন্ধকারে পাথরে উঠবেন না।
- ছেঁড়াদ্বীপে হাঁটার আগে জোয়ার-ভাটা দেখে নিন।
- সৈকতে ছায়া কম: সবার জন্য টুপি, সানস্ক্রিন আর পানি।
- পাথুরে সৈকতে ছোট পা বাঁচাতে পানিতে চলার জুতা বা স্যান্ডেল।
শিশুদের জন্য যা নেবেন
- দরকারি ওষুধ, আর ছোট একটা ফার্স্ট-এইড কিট
- রোদের টুপি, সানস্ক্রিন আর সানগ্লাস
- পানিতে চলার জুতা বা স্যান্ডেল
- ঠান্ডা সন্ধ্যার জন্য হালকা জ্যাকেট
- হালকা খাবার আর প্রত্যেকের জন্য রিফিলযোগ্য পানির বোতল
- সন্ধ্যার জন্য টর্চ
- নিজেদের ময়লা ফেরত আনার জন্য একটা ব্যাগ
পরিবারের খাবার
ডুপ্লেক্সে ব্রেকফাস্ট ধরা। আমাদের খোলা আকাশের রেস্তোরাঁয় তিন বেলার খাবারই মেলে — মাছের তরকারি, মাছ ভাজা আর গ্রিলের সামুদ্রিক খাবার — আর শুধু যা অর্ডার করবেন তারই দাম। বিশেষ কিছু, বা শিশুদের জন্য কম ঝাল কিছু চাইলে আগে থেকে অর্ডার দিন। আরও আছে সেন্টমার্টিনে কী খাবেন লেখায়।

পরিবারের জন্য বুক করুন
হোয়াটসঅ্যাপে তারিখ আর কতজন বড় ও কতজন শিশু আসছেন জানান। আমরা কটেজ নিশ্চিত করব, আর জাহাজের সিটও বুক করে দিতে পারি — খালি থাকলে ফ্যামিলি কেবিনসহ। বিস্তারিত আছে ডুপ্লেক্স কটেজ পাতায়।




