সেন্টমার্টিন সরু একটা দ্বীপ, চারদিকেই সমুদ্র, কিন্তু এক মাথা থেকে আরেক মাথায় সৈকতের চেহারা একদম আলাদা। কোন দিকটা কেমন, আর কোনটা আপনার জন্য।
সেন্টমার্টিন লম্বা আর সরু, তাই যেখানেই থাকুন সৈকত বেশি দূরে না। কিন্তু সব সৈকত এক রকম না। জেটির পাশের উত্তর সৈকতে দুপুর থেকে ভিড়, পশ্চিম দিকে সূর্য ডোবে, আর ছেঁড়াদ্বীপের দিকের দক্ষিণটা পাথুরে, নিরিবিলি, রাতে অন্ধকার। পাশাপাশি তুলনা করে দেখাচ্ছি, ছেঁড়াদ্বীপের কাছের এল মারেনা ইকো রিসোর্টের টিম থেকে।
সৈকতগুলোর নাম একেক গাইডে একেক রকম, তাই আমরা দ্বীপের কোন দিক সেটা দিয়ে বলছি। দ্বীপ খোলে শুধু সরকারের ঠিক করা মৌসুমে: গত মৌসুমে (২০২৫–২৬) খোলা ছিল ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি, নভেম্বরে শুধু দিনে গিয়ে দিনে ফেরা। লেখার সময় (অক্টোবর ২০২৬) ২০২৬–২৭-এর নিয়ম প্রকাশ হয়নি।
জেটির পাশের উত্তর সৈকত
কক্সবাজার থেকে পর্যটকের জাহাজ দুপুরের দিকে দ্বীপের উত্তর মাথার মূল জেটিতে ভেড়ে। তাই উত্তর সৈকতই সেন্টমার্টিনের সবচেয়ে ভিড়ের জায়গা: ডে-ট্রিপার, দোকান, নৌকা, আর জাহাজ আসা থেকে বিকেল ৩টা–৩টা ৩০-এ ফেরা পর্যন্ত বেশির ভাগ মানুষ এখানেই। হাতে কয়েক ঘণ্টা থাকলে এটাই সুবিধার, জমজমাটও। তবে নিরিবিলি সৈকত খুঁজলে এটা না।

পশ্চিম দিক, সূর্যাস্তের জন্য
দ্বীপের পশ্চিম দিকটা খোলা বঙ্গোপসাগরের দিকে, তাই সমুদ্রের ওপর সূর্য ডোবা দেখার দিক এটাই। বালুর ওপর প্রায়ই মাছ ধরার নৌকা তোলা থাকে, আর ডে-ট্রিপাররা চলে গেলে সন্ধ্যাটা শান্ত। সময়গুলো আছে আমাদের সেন্টমার্টিনের সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত লেখায়।

পূর্ব দিক, সূর্যোদয়ের জন্য
পূর্ব দিকটা পানির ওপারে মূল ভূখণ্ডের উপকূলের দিকে। ভোরে সূর্য ওঠে এই দিকে, আর তখন সৈকত সবচেয়ে ফাঁকা। সূর্যোদয় দেখতে উঠলে ছেঁড়াদ্বীপে রওনা দেওয়ারও এটাই সেরা সময়, জাহাজ আসার আগে।
দক্ষিণ, ছেঁড়াদ্বীপের কাছে
দক্ষিণ মাথা দ্বীপের সবচেয়ে নিরিবিলি অংশ। এখানে তীর পাথুরে: প্রবাল পাথর, জমে থাকা পানি, মানুষ কম। রাতে আলো খুব কম, তাই আকাশভরা তারা। দক্ষিণ মাথার ঠিক পাশেই ছেঁড়াদ্বীপ, বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষিণের বিন্দু। ভাটার সময় দক্ষিণ থেকে বালু আর পাথরের ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া যায়; জোয়ারে সমুদ্র পথ কেটে দেয়। হাঁটার নিয়ম আমাদের ছেঁড়াদ্বীপ গাইডে।

পাথর ধারালো আর পিচ্ছিল, তাই স্যান্ডেল বা পানিতে চলার জুতা পরুন, আর প্রবালের ওপর না, শক্ত বালু আর খালি পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটুন। এল মারেনা ইকো রিসোর্ট দ্বীপের এই মাথাতেই, ছেঁড়াদ্বীপ সৈকতের কাছে।
কোন সৈকত আপনার জন্য?
- ডে-ট্রিপে কয়েক ঘণ্টা: জেটির পাশের উত্তর সৈকত। এর বেশি সময় পাবেন না।
- সূর্যাস্ত: বিকেলের শেষে পশ্চিম দিক।
- নিরিবিলি, তারা আর ছেঁড়াদ্বীপ: দক্ষিণ। মৌসুমের নিয়মে রাতে থাকা গেলে এখানে এক রাত থাকুন।
- শিশুরা: দিনের আলোয় বালুর সৈকত, পাশে একজন বড় কেউ, আর অন্ধকারে পাথরে নয়। আরও আছে আমাদের পরিবার নিয়ে ভ্রমণের গাইডে।
সৈকতের কাছে হোটেল খুঁজছেন?
সরু দ্বীপে বেশির ভাগ জায়গাই কোনো না কোনো সৈকতের কাছে, তাই আসল প্রশ্ন হলো কোন সৈকত, আর কত দূর। জিজ্ঞেস করুন হেঁটে কত মিনিট, দ্বীপের কোন দিকে, আর সৈকতটা বালুর না পাথুরে। আমাদের কটেজ আর তাঁবু দক্ষিণে ছেঁড়াদ্বীপ সৈকতের কাছে; সৈকতের সবচেয়ে কাছে তাঁবু। কোথায় থাকবেন বাছাই নিয়ে আরও পড়ুন সেন্টমার্টিনে কোথায় থাকবেন।
এক সৈকত থেকে আরেক সৈকতে
সেন্টমার্টিনে গাড়ি নেই। জেটি থেকে দক্ষিণে লোকাল ভ্যান, রিকশা বা বাইকে লাগে প্রায় ২৫ মিনিট, আর দ্বীপ এত ছোট যে হেঁটেও ঘোরা যায়, বিশেষ করে ভাটার সময় তীর ধরে। নগদ টাকা রাখুন, আর ওঠার আগে ভাড়া ঠিক করে নিন। বিস্তারিত আমাদের সেন্টমার্টিনে যাতায়াত লেখায়।
সব সৈকতের নিয়ম
- রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, জোরে গান বা বারবিকিউ পার্টি নিষেধ।
- সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইক বা অন্য কোনো মোটরযান নিষেধ।
- প্রবাল ছোঁবেন না, এর ওপর দাঁড়াবেন না, তুলবেন না; শামুক, কাঁকড়া আর তারামাছ যেখানে আছে সেখানেই রাখুন।
- পলিথিন নিষেধ: রিফিলযোগ্য বোতল আনুন আর ময়লা সঙ্গে ফিরিয়ে নিন।
এগুলো গত মৌসুমের (২০২৫–২৬) নিয়ম। পুরো তালিকা আমাদের প্রবাল সংরক্ষণ লেখায়, আর সাঁতারের টিপস সেন্টমার্টিন কি নিরাপদ? লেখায়।




